অন্যান্য জাতের মধ্যে কিছু কিছু জমিতে কালোজিরা ধানের আবাদ করায় এমন চিত্র ফুটে উঠেছে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধানক্ষেতগুলোতে। যার ফলে ধানের মাঠগুলো এখন অপরূপ সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে। এসব কালোজিরা ধান থেকে ছড়াচ্ছে সুগন্ধিও। ওই সুগন্ধে মুখর হয়ে থাকে আশপাশ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, লালমোহনে এ বছর ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অতিবৃষ্টিতে ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সবশেষ এবার লালমোহন উপজেলায় ২৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ বছর ২০০ হেক্টর জমিতে কম আমন আবাদ হয়েছে এই উপজেলায়। তবে এরমধ্যে অন্তত ৪০ হেক্টর জমিতে কালোজিরা ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা।
.png)
জানা গেছে, কালোজিরা ধান থেকে সুগন্ধি চিকন চাল উৎপাদন হয়। বিশেষ অনুষ্ঠানে যা দিয়ে তৈরি হয় পিঠাপুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি, জর্দাসহ আরো নানা রকম সুস্বাদু মুখরোচক খাবার। তবে এ জাতের ধানের ফলন অন্যান্য ধানের চেয়ে কম হয়। তবে এই ধান এবং চালের মূল্য অন্যান্য জাতের অন্তত দ্বিগুণ। লালমোহন উপজেলার কৃষকরা কেবল পারিবারিক চাহিদা মেটাতেই এই ধানের চাষ করছেন। তবে পারিবারিক চাহিদা পূরণের পর স্বল্প পরিমাণের যে ধান বা চাল থাকে, কৃষকরা তা বাজারে বিক্রি করেন। তবে ধানের চেয়ে কৃষকরা চাল হিসেবেই বাজারে বিক্রি করেন বেশি। কারণ, কালোজিরা ধানের চাল অনেক জনপ্রিয়।
লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাষি খোরশেদ আলম বলেন, গত ৪০ বছর ধরেই আমি ধানের আবাদ করছি। প্রতি বছরই কম-বেশি কালোজিরা ধানের চাষ করি। এ বছরও আমি প্রায় ৮ শতাংশ জমিতে এই কালোজিরা ধানের চাষ করেছি। অন্যান্য জাতের ধানের থেকে এ ধানের ফলন কম হয়, তবে বাজারে এর দাম অনেক বেশি। এই ধান মূলত আমিসহ অনেকেই পারিবারিক চাহিদা মেটানোর জন্য চাষ করি। এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি কালোজিরার চাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা যায়।
একই এলাকার মো. ফিরোজ নামে আরেক কৃষক জানান, আমিও কালোজিরা ধানের চাষ করেছি। এই ধানের চালের বাজারে অনেক চাহিদা। প্রতি কেজি চাল বাজারে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। তবে অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ জাতের ধানের ফলন কিছুটা কম হয়। যার জন্য মূলত কৃষকরা এই কালোজিরা ধানের চাষ কম করেন।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাচনাইন বলেন, কালোজিরা পুরোনো জাতের ধান। এছাড়া এই ধানের চালের চাহিদা বিশেষ বিশেষ সময় বৃদ্ধি পায়। তাই অন্যান্য জাতের চেয়ে কালোজিরা ধানের চাষ অনেক কম হয়। তবুও আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পুরোনো বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ অব্যাহত রাখতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।