স্থানীয়রা বলছেন, এই সেতুর ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন-জীবিকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তবে এলজিইডির কর্তাব্যক্তি বলছেন, শিগগিরই তিনি এ সমস্যা সমাধানের ‘উদ্যোগ’ নেবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়ের এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর থেকে তারা বিপাকে পড়েছেন। দিনের বেলায় কোনোরকমে হেঁটে যাতায়াত করা গেলেও রাতের বেলায় অন্ধকারে তা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেদিন সংযোগ সড়কটি ভেঙেছিল সেদিন পাশে থাকা একটি মার্কেটের পাঁচটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। এখন ওই মার্কেটের অন্য দোকানগুলোও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।
.png)
স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়ক ভাঙার পর বিষয়টি তারা প্রথমে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় নিজস্ব উদ্যোগে এলাকাবাসী বাঁশ ও মাটি দিয়ে ভরাট করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। এখন এই পথ দিয়ে পঞ্চগড় সদরের কামাত কাজলদীঘি ও বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের একটি গ্রামসহ আশপাশের প্রায় ৫০ গ্রামের বাসিন্দা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথ দিয়ে ট্রাক্টরসহ সব ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বাজারে বিক্রি করতে নিতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে।
পথচারী নাজিম হোসেন বলেন, এই সেতু দিয়ে আমাদের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত করতে হয়। সেতুর পাশে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছি। এ ছাড়া ভারী বা বড় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে যাতায়াত করতে গিয়ে আমরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
একই কথা বলেন মঞ্জু হোসেন নামে আরেক পথচারী। তিনি বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আমাদের যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। দিনের বেলায় অনেকে যাতায়াত করতে পারলেও রাতে সেটা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানিয়েছি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যাগ নিতে দেখা যায়নি।
ভ্যানচালক আব্দুর রহমান বলেন, এই নদী খননের কারণে আামদের সড়ক ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটি৷ এভাবে আর আর কতদিন চলাচল করব৷ সড়কটি যেন দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তিনি।
কুচিয়ার মোড় তালমা চছপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি একরামুল হক বলেন, নদী খননের কারণে এই ভাঙন হয়নি৷ পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে সেতুর পাশে সড়কের মাটি ভেঙে গেছে৷ আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি৷ আশা করি দ্রুত মেরামত হবে৷
কামাত কাজলদিঘী ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন বলেন, এই সেতুর ওপর দিয়ে ৫০ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। পাঁচ মাস আগে ভেঙে যাওয়ার পর পরই আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কোনোরকম চলাচলের উপোযোগী করেছি। তবে রাতের বেলায় এই সেতু দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে তারা যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান বলেন, পানি সংরক্ষণের জন্য ২০০৪ সালে কুচিয়ামোড়-তালমাচ্ছপাড়া উপপ্রকল্পের আওতায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়। পানির চাপের কারণে সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেতু ও স্লুইসগেটের স্ট্রাকচার (ভিত্তি) ঠিক রয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া বলে জানান এই প্রকৌশলী।