জন্ম থেকেই ডান হাত বাঁকা ও শক্তি প্রয়োগ করে কোনো কাজ করতে পারেন না ফারুক। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়েও চা বিক্রি করে টিকে আছেন জীবন সংগ্রামে। অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে না পারা এ যুবক বেশ কয়েক রকমের চা বিক্রি করে খ্যাতি অর্জন করেছেন জেলাজুড়ে।
নতুনহাট গোলচত্বর মোড়ের স্থানীয় কয়েকজন দোকানি বলেন, ২০ বছর ধরে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন ফারুক। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি মালাই চা বিক্রি করছেন। তার মালাই চা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন। বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিক, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার চা খুব পছন্দ করেন। এছাড়া পাবনা সদর, লালপুর ও ঈশ্বরদী শহর থেকে মানুষ মালাই চা খেতে ছুটে আসেন ফারুকের দোকানে।
.png)
তারা আরো বলেন, মালাই চায়ের পাশাপাশি ফারুকের দুই লেয়ার চা, দুধ চা, মাল্টা চা ও লাল চায়ের বেশ সুনাম রয়েছে। অনেকেই তার লাল চা খুব পছন্দ করেন।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার মশুরিয়া পাড়া থেকে আসা শেখ মোহাম্মদ তুষার বলেন, আমি ঈশ্বরদী শহর থেকে ফারুক ভাইয়ের চা খাওয়ার জন্য এসেছি। শহর থেকে ফারুকের চায়ের দোকান প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে। এ দোকানে প্রায়ই চা খেতে আসি। এখানে ঈশ্বরদী শহর, পাবনা জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন চা খেতে আসে। বিদেশি নাগরিক, সেনা সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের এখানে চা খেতে দেখি। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়েও তার জীবন সংগ্রাম এবং তার এক হাত দিয়ে তৈরি চায়ের স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন চা খেতে এসে বলেন, সময়-সুযোগ হলেই ফারুক ভাইয়ের দোকানে চা খেতে আসি। তার তৈরি ৪ রকমের চায়ের প্রতিটিই আমার কাছে ভালো লাগে। আমি মালাই চা ও দুধ চা বেশি পছন্দ করি। তার চা অসাধারণ। আমি যখনই আসি, তখনই দেখি ভিড় লেগেই আছে। এ দোকানে বেশি ভিড় হয় সন্ধ্যার পর। চা খাওয়ানোর পাশাপাশি তার কণ্ঠে গানও শুনি আমরা। এতে দীর্ঘ সময় নিয়ে এ দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া যায়।
চায়ের দোকানদার ফারুক হোসেন বলেন, মালাই চা তৈরি হয় গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে। দুধ ৭-৮ ঘণ্টা জ্বালিয়ে এ চা তৈরি করা হয়। সেজন্য এ চা খুব সুস্বাদু। পাঁচ-ছয় বছর আগে নতুনহাট এলাকায় শীতকালীন মহড়ায় একদল সেনা সদস্য এসেছিলেন। তারা মাঝে মধ্যে চা খেতে আসতেন। তাদের মধ্য থেকে একজন আমাকে মালাই চা তৈরির বিষয়টি বলেন এবং কীভাবে এ চা তৈরি করতে হয়, সেটিও জানান। তারপর থেকেই নিয়মিত মালাই চা বিক্রি করছি।
ফারুক আরো বলেন, চা ভালো হওয়ায় একজন খেয়ে আরেকজনকে বলেন। এভাবেই এলাকায় আমার চায়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ কাপ মালাই চা বিক্রি হয়। এছাড়া লাল চা (রং চা), দুধ চা ও দুই লেয়ারের চা আমি বিক্রি করি। আমার সব ধরনের চায়ের কাস্টমার আছে। চায়ের দোকানে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় শুক্রবার ও শনিবার। চা দোকানের আয় দিয়ে বাবা-মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে সুখেই আছি।