সোমবার (২৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুরের মাজার রোড এলাকা থেকে ঘাতক রুবেলকে গ্রেফতার করে র্যাব।
এর আগে, সোমবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার রংধনু আবাসিক হোটেলের ৫২৬ নম্বর রুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মী রুখসানা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
.png)
গ্রেফতারকৃত রুবেল মিয়া মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মত্ত এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। নিহত রুখসানা বেগম ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত রুখসানার ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে র্যাবের পক্ষ থেকে সদর থানা পুলিশের কাছে রুবেলকে হস্তান্তর করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার।
র্যাব জানায়, নিহত রুখসানা বেগমের স্বামী রুবেল মিয়া বেকার থাকার কারণে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। স্বামী রুবেল কোনো কাজ না করলে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেন রুখসানা বেগম। এতেই রুবেল মিয়া ক্ষুব্ধ হন। তারপর রুবেল তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গত রোববার মধ্যরাতে মানিকগঞ্জে আসেন। এরপর রাত হওয়ার অজুহাতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের রংধনু আবাসিক হোটেলে ৫২৬ নম্বর রুম ভাড়া নেন। হোটেলের রুমে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর স্ত্রী রুখসানা বেগম ঘুমিয়ে পড়লে গলা কেটে হত্যার পর ভোররাতে পালিয়ে যান রুবেল মিয়া। সোমবার দুপুরে হোটেলের ম্যানেজার রুমের ভেতরে গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
র্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য র্যাব-৪-এর একটি দল কাজ শুরু করে। এরপর হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুখসানার ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন রুবেল।