খুলনার দৌলতপুর উপজেলার আড়ংঘটার বাসিন্দা আরিফুল মাসে দেড় হাজার টাকা ভাড়ায় স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে থাকেন গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা সলিং মোড়ের চান মিয়ার বাড়ির টিনশেড একটি ঘরে। টাকার অভাবে ঘর ভাড়া দিতে পারেননি দুই মাস। মুদি দোকানেও বাকি ৩ হাজার টাকা। ওষুধ কেনার টাকাও শেষ। এ অবস্থায় রক্তবমির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে।
লিভার সিরোসিস কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে আরিফুল ইসলামকে। মাসে ৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগছে তার। কিন্তু হাতে ওষুধ কেনার টাকা নেই। সুস্থ হতে পারবে কি না জানা নেই, তবুও ছোট্ট মেয়ের জন্য বেঁচে থাকার ব্যাকুলতা তার।
.png)
শরীরের শক্তি ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে! স্থির হয়ে দুই মিনিটের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না আরিফুল। লিভারে পানি জমেছে, ফুলে গেছে শরীর।
আরিফুল ইসলাম বলেন, জীবন বিষিয়ে উঠেছে। মেয়েটির জন্য খারাপ লাগে। আমি সুস্থ হতে চাই। মেয়েটির জন্য আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতে চাই।
বছর পাঁচেক আগেও ভালোই ছিলেন আরিফুল ইসলাম। ঢাকার খিলক্ষেতে লোটাস কামাল টাওয়ারের লিফটম্যান ছিলেন। ভালোই চলছিল জীবন। কিন্তু থমকে যেতে হয় আরিফুলকে! পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় হেপাটাইসিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত তিনি। লিভার বিশেষজ্ঞ মাহতাব স্বপ্নীলের অধীনে চিকিৎসাও নেন। কিন্তু কপাল খারাপ আরিফুলের। বছর খানেক আগে খবর আসে লিভারের অবস্থা ভালো না। লিভার সিরোসিস অবনতির দিকে যাচ্ছে। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
শরীর ক্রমশ খারাপ হওয়ায় লিফটম্যানের চাকরি ছাড়তে হয়। ঢাকায় ঘর ভাড়া বেশি হওয়ায় চলে যান শ্রীপুরের মাওনায় বোনের কাছে। সেখানে এক রুম ভাড়া নেন।
উপার্জন না থাকায় সংসারের খরচ চালানোও আরিফুলের পক্ষে এখন দুঃসাধ্য। গ্রামে এক কাঠা জমিও ছিল তার। চিকিৎসার জন্য শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। এখন আর কিছুই নেই বিক্রির মতো।
ঘরে বাজার নেই, সদাই নেই। আরিফুলের আকুতি- আমাকে কিছু বাজার করে দিন। বউ-বাচ্চা নিয়ে ক্ষুধার কষ্টে আছি। অমানবিক জীবন কাটাচ্ছি। আপনাদের কাছে মিনতি, আমার সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।
আরিফুল এখনো স্বপ্ন দেখেন যদি সহযোগিতার হাত মেলে তাহলে হয়ত ফের জীবন-জীবিকার হাল ধরতে পারবেন। তখন আর মানুষের কাছে হাত পাততে হবে না। অর্ধাহার-অনাহারে থাকা স্ত্রীর মুখে হাসি ফুটবে, হাসি ফুটবে ছোট্ট মেয়ের মুখে। তাই তো হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তা চান আরিফুল ইসলাম।
কেউ চাইলে খাদ্য কিনে দিয়ে, ওষুধ কিংবা নগদ টাকা দিয়ে আরিফুলের পাশে দাঁড়াতে পারেন। সহায়তা পাঠাতে পারেন ০১৬৭৪-২৮২২৫৭ এই বিকাশ নম্বরে।