নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের উত্তর পাংখারচর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব রহমান মুন্সির ছেলে জাহাজের সুকানি আমিনুল মুন্সী (৪১) ও ইঞ্জিনচালক লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার এগারনলী গ্রামের আবেদ মোল্যার ছেলে সালাউদ্দিন মোল্যা (৪০)।
তারা প্রত্যেকেই ছিলেন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের হারানোর খবরে ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিহতদের পরিবারগুলো।
.png)
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে লোহাগড়ার উত্তর পাংখারচর ও লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার এগারনলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়জনদের মরদেহ ফিরে পেতে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দুর্বৃত্তরা আক্রমণে হত্যাকাণ্ডের শিকার উভয় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর বেদনায় মূর্ছা যাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। এ সময় তাদের আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন সমবেদনা জানাতে।
নিহতদের মধ্যে মো. সালাউদ্দিন মোল্যার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তিনিই।
সালাউদ্দিন মোল্যার ছেলে নাইম মোল্যা (১৮) বলেন, ‘আমরা জানিনা কিভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমার মায়ের সঙ্গে বাবার শেষ কথা হয়। সেসময় আমার মাকে জানিয়েছিলেন চাঁদপুর যাচ্ছেন তিনি। এরপর (সোমবার) দুপুরে খবর পাই আমাদের বাবা মারা গেছেন।’
অপরদিকে, নিহত আমিনুল মুন্সীর স্বজন আকবর মুন্সী বলেন, ‘কাজের উদ্দেশ্যে জাহাজে গিয়েছিলেন আমিনুল মুন্সী। সোমবার বিকেলে জানতি পারি আমিনুল আর নেই।’
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় নিহতদের আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে এসে ভিড় জমান। পরে দুপুরে মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝেরচর এলাকায় নোঙ্গর করা এমবি আল বাকেরা কার্গো জাহাজ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরো দুইজন মারা যান। অপর একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।