ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরের কৃষকরা

আল হাবিব, সুনামগঞ্জ 
প্রকাশিত: ১২:৪২, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরের কৃষকরা
বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরের কৃষকরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বোরো আবাদে হাওরে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালগঞ্জের কৃষকরা। এই অঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র ভরসা বোরো ফসল। হাওরাঞ্চলে ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে বিশাল হাওর। যার কারণে বোরো ধান ছাড়া অন্য আবাদ করা যায় না। তাই বোরো ধান ভালো হলে সারা বছরের খোরাকিসহ সংসারের যাবতীয় খরচ উঠে। তবে আবাদের শুরুতেই এবার সারের অপ্রতুলতা রয়েছে। উপজেলায় মিলছে না প্রয়োজনীয় সার। সারের জন্য বিভিন্ন দোকানে ভিড় করতে দেখা গেছে কৃষকদের। অনেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। যার কারণে আগামী মৌসুমে ফসল নিয়ে শংকিত কৃষকরা।   

সরেজমিন বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করছেন। সোমবার হালির হাওরে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছিলেন জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হাটি গ্রামের আবুল হোসেন। 

তিনি জানান, ৩ দিন যাবৎ এলাকায় কসকেট (ডিএপি) সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে সুনামগঞ্জ থেকে ৫০ কেজির একটি বস্তা দেড় হাজার টাকায় কিনে এনেছেন। ভাড়া গুনতে হয়েছে দুইশ টাকা।  

Advertisement

কৃষক সামছুল হক জানান, শুরুতে জমি চাষ করে মই দেওয়া হয়ে থাকে। চারা রোপণের আগে ডিএপি সার পটাশ সারের সঙ্গে মিশিয়ে ছিটাতে হয়। কিন্তু এবার অসাধু ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশী দামে বিক্রয় করার অপচেষ্টা করছে। যাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিক্রয় করা যায় তাদের কাছে লুকিয়ে সার বিক্রয় করছে, আবার যাদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া যায় না তাদের বলছে সার নেই। 

কৃষক কামাল হোসেন, হিরা মিয়া, আব্দুছ ছোবহানের সঙ্গে দেখা হয় সাচনা বাজারে। তারা জানান, সাচনা বাজারে ডিএপি ও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না, গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছে। বাড়তি দাম দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। সাচনা বাজারে গিয়ে সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানাবেন বলেও জানান। সার না পাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। 

উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন কুমার সাহা বললেন, এবার আমাদের বরাদ্দ একদম শেষ পর্যায়ে, তাই কৃষকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আলাউদ্দিন ও মনসুরের দোকানে কিছু বস্তা আছে। আমরা কৃষকদেরকে অল্প অল্প করে দিতে বলেছি। আগামী ২ তারিখে পুনরায় সার আসবে। তখন আর সমস্যা হবে না।   

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সুনামগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!