ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ১ জানুয়ারি ২০২৫
সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগকে ভুল ধারণা বলে সড়ক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলার রেলগেট-চানমারী পর্যন্ত প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে- এমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, পদ্মানদীর সাঁড়াঘাটের বালুমহালের ৪০-৪৫ টন ওজনের ড্রাম্প ট্রাক চলাচল করায় শহরের রেলগেট থেকে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে হয়ে সাঁড়া ঝাউদিয়া স্কুল, সিভিলহাট তালতলা মোড় পর্যন্ত পৌনে ৬ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন সম্পূর্ণ নতুন এক প্রযুক্তি ওয়েট মিক্স মেকাডাম (ডব্লিউএমএম) নানা গ্রেডের অ্যাগ্রিগ্রেড খোয়া মিশিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের অন্তত ৫.৬৩ কিলোমিটার এই সড়কটি। রাজশাহীর ঘোড়ামারা সাহেব বাজার এলাকার বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

তবে নতুন প্রযুক্তিতে রাস্তার চলমান কাজ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি। ইটের খোয়ার সঙ্গে মাটি মিশিয়ে পানিতে ভিজিয়ে করা হচ্ছে হালকা কাদাময়। একদিন পর সেই কাদাময় ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে সড়কে। এসব দেখে স্থানীয় জনগণ কাজের মান নিয়ে তুলছেন নানা প্রশ্ন। জনগণের নানা প্রশ্নের মুখে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল হক কবির রাস্তাটি টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ করেছেন।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈশ্বরদী পৌর স্টেডিয়াম খেলার মাঠে রাস্তার উপকরণ ইট, বালু, খোয়া, মাটি মেশানোর জন্য রাখা হয়েছে। সেখানেরই ইটের খোয়ার সঙ্গে মাটি মিশিয়ে পানিতে ভিজিয়ে খোয়াগুলো অন্তত একদিকে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। সেই কাদামাখা খোয়াগুলো রাস্তায় ফেলে রোলিংয়ের কাজ চলছে। সেখানে কাজগুলো দাঁড়িয়ে পরিদর্শন করছেন উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, সাহাবুল সরদার ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রাস্তাটিতে নিম্নমানের ও কাদা মেশানো ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার রাস্তাটি মাত্র ১৫-২০ টন ওজন ধারণ ক্ষমতা করে নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই রাস্তা দিয়ে চলে অন্তত ৪০-৫০ টন ওজনের বালুবোঝাই ট্রাক। সেই হিসেবে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই রাস্তাটি ঠিক কতদিন টিকবে, তা অনুমান করা যাচ্ছে না।

বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আলহাজ মো. সৈকত আলী বলেন, কোনো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ হচ্ছে না। জনগণ না বুঝে এসব অভিযোগ করছেন। খোয়ার সঙ্গে মাটি মিশানো দেখে তারা মনে করছে নিম্নমানের সামগ্রী। এটি মূলত নতুন একটি আইটেম, যা ডব্লিউএমএম নামে পরিচিত। এতে ১৫% বালি ও ৮৫ % খোয়া থাকবে। এগুলো মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা জাগ দিয়ে রেখে তারপর ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো- এক ইটভাটা থেকে তো সব খোয়া পাওয়া যাবে না। ভিন্ন ভিন্ন ভাটা থেকে ইট এনে খোয়া তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেক ভাটার খোয়া আলাদা আলাদা। ভাটা মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি এক লাখ ইটে সামান্য কিছু ইট নিম্নমানের চলে আসে, যেগুলো দেখে মনে হয় সব কিছুই নিম্নমানের। 

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল হক কবির বলেন, নিম্নমানের ইটের খোয়ার সঙ্গে মাটি মিশিয়ে রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে বলে এলাকার কিছু মানুষের অভিযোগটি সত্য নয়। এটা নতুন পদ্ধতি। সেই কারণে জনগণ বুঝতে না পেরে অভিযোগ করছে। গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এলজিইডির নতুন পদ্ধতিতে (ডব্লিউএমএম) ঈশ্বরদীতে এই প্রথম এ রাস্তাটির কাজ হচ্ছে। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার, প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটার হবে। গড়ে সাড়ে ৬ ইঞ্চি নতুন এ পদ্ধতি খোয়া ফেলা হচ্ছে। এর ওপর কার্পেটিং হবে দেড় ইঞ্চি (৪০ এমএম)। আর রাস্তাটির ধারণ ক্ষমতা হবে ১৫-২০ টন। কিন্তু রাস্তায় চলাচল করে সাঁড়া বালুমহালের ১০ চাকার অন্তত ৪০-৪৫ টনের ড্রাম্প ট্রাক। যার কারণে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এবার নতুন নির্মিত সড়কে উপজেলা সংলগ্ন একটি বার স্থাপন করে দেব যেন ভারী যানবহন না প্রবেশ করে। বর্তমানে যে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, তা অনায়াসে ১০ বছর টিকবে বলে চ্যালেঞ্জ করলাম। এছাড়াও রাস্তাগুলো রক্ষা করতে প্রয়োজন জনসচেতনতা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!