ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সরিষা ও মধুর সমন্বিত চাষে লাভবান চাষিরা

আল হাবিব, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৫
সরিষা ও মধুর সমন্বিত চাষে লাভবান চাষিরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মধ্যনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। এবারো সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষের বক্স বসিয়েছন চাষিরা। সরিষা ফুলে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছির দল। সংগৃহীত মধু নিয়ে সঞ্চয় করছে ক্ষেতের পাশেই স্থাপিত মৌ বক্সে। এতে মৌমাছির মাধ্যমে সরিষা ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হচ্ছে। ফলে একদিকে সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অপরদিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। ফলে সমন্বিত এই চাষে সরিষা চাষি ও মৌ চাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলায় চলতি বছরে ৫১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষা বীজ ও সার সহায়তা দেওয়ার কারণে চলতি বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ শতাংশ সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পতিত জমিতেও সরিষার চাষ করেছেন চাষিরা। উপজেলায় সরিষা চাষ সবচেয়ে বেশি হয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে চলতি বছর ৩৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে সরিষা ও মৌ চাষের সমন্বিত চাষাবাদ। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে সরিষা ক্ষেতের পাশে ১০০টি মৌ বক্স স্থাপন করেছেন মৌ চাষিরা। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে সরিষার ফলন, লাভবান হচ্ছেন সরিষাচাষি ও মৌচাষি উভয়েই।

Advertisement

জানা গেছে, চাষিরা সাধারণত পছন্দের একটি সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় চাক ভরা বক্স ফেলে রাখেন। একেকটি বক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি মৌচাকের ফ্রেম রাখা হয়। আর তার ভেতর রাখা হয় একটি রানী মৌমাছি। রানী মৌমাছির কারণে ওই বক্সে জড়ো হয় শ্রমিক মৌমাছি। আর প্রতিদিন সকাল-বিকেল এই বক্সের ভেতরে রাখা চাকে জমা হওয়া মধু সংগ্রহ করেন মৌচাষিরা। মৌ-চাষের মাধ্যমে চাষিরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। এসব সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন বলেন, প্রথমবার সরিষা ক্ষেতে মৌচাষের সমন্বিত চাষাবাদ শুরু হয়। সমন্বিত এই চাষে সরিষা চাষি ও মৌ চাষি উভয়ই লাভবান হয়। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে ফুলের পরাগায়ন ও ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। মৌ চাষের কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের মির্জাপুর ও দক্ষিণউড়া মাঠে সরিষা ক্ষেতের পাশে ১০০ মৌ বক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি শাহ আলম। নেত্রকোণা সদর উপজেলা থেকে তিনি মধু সংগ্রহের জন্য এসেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে সোমবার পর্যন্ত তার ১০০ টি বক্স থেকে প্রায় সাড়ে ৬ মণ মধু উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিনি। 

তিনি আরো বলেন, অজ্ঞতাবশত সরিষা চাষিরা ক্ষেতের পাশে মৌ বক্স স্থাপন করতে দিতে চান না। তবে এবার কৃষি বিভাগের সহায়তায় তারা বেশ উৎসাহী।

মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় গত বছর থেকে সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষ শুরু করা হয়েছে। সমন্বিত এ চাষে কৃষক ও মৌ চাষি উভয়েই লাভবান হচ্ছেন। সরিষা ও মৌ চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে চাষিদের দিক-নির্দেশনাসহ সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
ট্যাগ: সুনামগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!