ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃত বেড়ে ৫ 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মৃত বেড়ে ৫ 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন। ছবি: বাংলাদেশ গার্ডিয়ান

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- মো. শাখাওয়াত হোসেন (৪৬) ও আশুরা আক্তার পাখি (৩৫)। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো চারজন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে, একইদিন দুপুরে মারা যান সামির আহমেদ সুমন (৪০)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মারা যান নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) ও তার ছেলে মো. শাওন (১৬)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

Advertisement

চিকিৎসকরা জানান, শাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখি শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। বাকি চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে দগ্ধ হন নারী-শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন বাকি চারজন হলেন- মো. শিপন (৩০), আয়েশা আক্তার (৪), উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (৯) ও ফারহান আহমেদ আনাস (৭)। তাদের মধ্যে মো. শিপনের শরীরের ৮০ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ ও ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।

এছাড়া মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির ১০০ শতাংশ, নুরজাহান আক্তার রানীর ১০০ শতাংশ ও তার ছেলে মো. শাওনের ৫০ শতাংশ এবং সামির আহমেদ সুমনের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- কোনো কারণে চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিস।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখবে।

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!