ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে, বসতবাড়ির আঙিনায় ও পুকুরপাড়ে অনাদরে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা সজনে গাছে এখন ফুটেছে অসংখ্য ফুল। সজনে গাছের ডালগুলো ভরে উঠেছে সাদা ফুলে। এ উপজেলায় প্রচুর সজনে গাছ থাকায় সর্বত্রই চোখে পড়ছে এই ফুলের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সজনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
একাধিক কৃষক জানান, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সজনে চাষে প্রায় কোনো উৎপাদন খরচ নেই। উপজেলার অনেক বাড়িতেই বিনা পরিচর্যায় সজনে গাছ রয়েছে। অনেকেই বাগানের বেড়ার খুঁটি হিসেবে সজনের ডাল রোপণ করেন, যা পরে বড় হয়ে গাছে পরিণত হয়ে ফলন দিতে শুরু করে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অনেকেই বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে ফলন ও বিক্রি থেকে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
.png)
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবজি এখনও বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় হাটবাজারে সজনে ডাটার চাহিদা অনেক। অন্যান্য সবজির তুলনায় সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সব বয়সের মানুষই এটি খেতে পছন্দ করেন।
উপজেলার মোগড়া এলাকার আবুল হোসেন বলেন, পুকুরপাড় ও রাস্তার পাশে তার ৬টি সজনে গাছে প্রচুর ফুল এসেছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে গাছগুলো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। তিনি জানান, গত বছর ওই ৬টি গাছ থেকে প্রায় দুই মণ সজনে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার পরও প্রায় ৫ হাজার টাকার সজনে বিক্রি করেছেন।
কৃষক রমজান মিয়া বলেন, সজনে খেতে তার খুবই ভালো লাগে। তাই বাড়ির চারপাশে ৭টি সজনে গাছ লাগিয়েছেন। গত বছর প্রথমবার গাছে ফলন আসে। এরপরও প্রায় দেড় হাজার টাকার সজনে বিক্রি করতে পেরেছেন। এ বছর গাছে প্রচুর ফুল এসেছে, তাই ভালো ফলনের আশা করছেন।
কৃষক মো. মিন্টু মিয়া বলেন, পুকুরপাড় ও বাড়ির চারপাশে তার কয়েকটি সজনে গাছ রয়েছে। এসব গাছ প্রায় কোনো পরিচর্যা ছাড়াই বড় হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ফলন আসছে। এবার গাছে অনেক ফুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সজনে এমন একটি গাছ যা ডাল রোপণ করলেই জন্মে। লাগানোর পর কয়েকদিন পানি দিলেই গাছটি মাটিতে ধরে যায়। এর প্রধান শত্রু ঝড়। তবে ঝড়ে ডাল ভেঙে গেলেও তেমন সমস্যা হয় না, যদি গাছটি উপড়ে না পড়ে।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে সজনে অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি। অন্যান্য সবজির তুলনায় এটি খুব কম পরিচর্যায় উৎপাদন করা যায়। অল্প সময়েই সজনে খাওয়ার উপযোগী হয় এবং সহজেই বাজারজাত করা সম্ভব। সুস্বাদু ও বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় এটি লাভজনক সবজি। উপজেলার অনেক বাড়িতেই সজনে গাছ রয়েছে। সজনে ডাটার চাহিদা থাকায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।