ঘেঁটু ফুল আর ভাঁটফুল যে নামই বলি না কেন!এই ফুল হচ্ছে ভাঁটি পুজো বা ঘেঁটু পুজোর একটি প্রধান উপকরণ। যাইহোক কবি জীবনানন্দ দাসের একটি ভীষণ পছন্দের ফুল হচ্ছে এই ভাঁট ফুল। আর আমরা ১৪ শাকনামে যে শাকগুলোকে চিনি তাদের ভেতর কিন্তু এই ঘেঁটু পাতার নাম ও উল্লেখ আছে সুতরাং ভেষজ হিসেবেও কিন্তু এর নাম বেশ উজ্জ্বল।
ভাঁট ফুল গ্রামের মাঠ-ঘাটে সুগন্ধ ছড়ায়। শরতের নীল আকাশ আর শুভ্র মেঘের সঙ্গে নদীর তীরে ভাঁটফুল বা ঘেঁটু ফুল যেন এক অপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি করে। তবে আজকাল এই ফুল খুব একটা দেখা যায় না। শিমুল ,পলাশ আমের মুকুলের মতো বাংলার বসন্তকে রঙিন করে তুলতে এই ভাঁট ফুলের মহিমা অতুলনীয়।
ভাঁটগাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো, আকারে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা এবং কিছুটা খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফোটে সাদা রঙের ফুল, যার পাপড়িতে থাকে বেগুনি রঙের আভা। ফুলগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি সৌরভ, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মৌমাছিরাও এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে।
.png)
গ্রামের মেঠোপথের ধারে, পতিত জমিতে, পাহাড়ি বন কিংবা ছড়ার পাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায় এই বুনোফুল। ইংরেজিতে একে বলা হয় Hill Glory Bower এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। এটি ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশের পরিচিত বুনোফুলগুলোর অন্যতম।
ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন,যে কোনো ফুলই সৌন্দর্যের উৎস। সব রকম ফুলই মানুষকে আকৃষ্ট করে। বসন্তের শুরুতে ফোটা ভাঁটফুল গ্রামবাংলার চিরচেনা ফুল। এ সময়টায় ভাঁটফুল প্রকৃতিতে রাজত্ব করছে। আমাদের পরিবেশের বিভিন্ন জায়গায় ফোটা এ ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি অলংকৃত হয়ে আছে। ভাঁটফুলের সঙ্গে আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় আমরা এই ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে পানিতে ফেলতাম, তখন পাপড়িগুলো ঘুরতে থাকত দেখতে খুব ভালো লাগত।
কলেজছাত্র ইস্রাফিল হোসেন ইমন জানান, ফাল্গুন মাস এলেই প্রকৃতিতে ভাঁটফুল ফুটে ওঠে। এতে পরিবেশে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোটে। বিশেষ করে রাস্তার দুপাশ, পরিত্যক্ত মাঠ, বন কিংবা জলাশয়ের পাশে এই ফুল বেশি দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় বর্তমানে ভাঁটফুলের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। তবুও বনে-বাদাড়ে অযত্নে ফুটে থাকা এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। বসন্ত এলেই তাই প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠে বুনো ভাঁটফুল।
দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর গ্রামের চিকিৎসক মোমিন কাজী বলেন, ভাঁট প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের নানা রোগে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রকৃতিতে ফাল্গুন মাস এলেই এই গাছে ফুল ফোটে। এতে প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়। এ ফুলের সৌন্দর্য মানুষকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে।
তিনি আরো বলেন, দিন দিন গ্রামীণ প্রকৃতি থেকে ভাঁট গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভাঁটসহ বিলুপ্তির হুমকিতে থাকা ওষুধি গাছ রক্ষায় আমাদের সবারই এগিয়ে আসা উচিত।