সরেজমিনে বিভিন্ন সিল্ক শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের সিল্ক পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। নিজেদের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী এসব পণ্য বেছে নিচ্ছেন তারা। প্রতি উৎসব মৌসুমেই নারীদের একটি বড় অংশের আগ্রহ থাকে সিল্ক পণ্যের প্রতি। রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজশাহীর সিল্ক শোরুমগুলোতে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা।
ক্রেতারা জানান, রাজশাহীর সিল্কের মান ও ঐতিহ্যের কারণে তারা প্রতিবছরই এখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করেন।
.png)
ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, প্রতিবছরই ঈদের কেনাকাটার একটি বড় অংশ রাজশাহীর সিল্ক থেকে করি। এখানকার কাপড়ের মান খুবই ভালো এবং ডিজাইনেও আলাদা এক ধরনের ঐতিহ্য ও আভিজাত্য থাকে। বিশেষ করে সিল্কের শাড়িগুলো আমার খুব পছন্দ। ঈদ উপলক্ষে নিজের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য কয়েকটি শাড়ি কিনেছি।
আরেক ক্রেতা মো. রাকিব হাসান বলেন, রাজশাহীর সিল্ক শোরুমগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। কাপড়ের মান ভালো হওয়ায় দাম একটু বেশি হলেও কিনতে আপত্তি নেই। ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের সবার জন্য পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস এবং বাচ্চাদের পোশাক কিনলাম।
ব্যাংককর্মী নুসরাত জাহান বলেন, রাজশাহীর সিল্কের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। সেই আস্থা থেকেই এখানে কেনাকাটা করতে আসা। এখানকার কাপড় টেকসই এবং পরতে আরামদায়ক। ঈদে আত্মীয়-স্বজনদের উপহার দেওয়ার জন্যও সিল্ক পণ্য কিনেছি। ঈদের বাড়তি চাহিদা পূরণে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন ডিজাইন ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী খুরশিদা খুশি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আমরা অনেক আগে থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করেছি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে এবার মসলিনের কাজ বেশি করা হয়েছে।
তিনি জানান, মসলিন শাড়ির দাম ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শিশুদের পোশাক ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, আর থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
ঊষা সিল্কের মহাব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, সিল্কের ব্যবসা সারা বছরই চলে। তবে এবার গরমের কারণে আমরা মসলিনের ওপর বেশি কাজ করেছি। ক্রেতাদের আনাগোনাও বেড়েছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিসের বিক্রি বেশি হচ্ছে।
সপুরা সিল্কের পরিচালক সাজ্জাদ আলী সুমন বলেন, এবার ঈদের প্রস্তুতি একটু ভিন্ন ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীল পরিবেশ এবং আবহাওয়ার কারণে বাজারে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সিল্ক ও সিল্ক ছাড়া দুই ধরনের পোশাকই তৈরি করি।
তিনি জানান, বর্তমানে সিল্ক পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি। তার প্রতিষ্ঠানে শাড়ি ৩২০০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, থ্রি-পিস ৪০০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং পাঞ্জাবি ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই বিক্রি বাড়বে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে রাজশাহীর বাজারে অন্তত ৬০ কোটি টাকার সিল্ক পণ্য বিক্রি হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।