যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে প্রশান্তির খোঁজে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসছেন পাহাড়ের এই অরণ্য জনপদে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র আলুটিলা রহস্যময় গুহা, রিছাং ঝরনা, হর্টিকালচার পার্ক, তারেং এবং জল পাহাড় এলাকায় পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এছাড়া মাটিরাঙ্গার শতবর্ষী বটগাছ, ভগবান টিলা এবং তাইন্দং এলাকার নতুন চা-বাগানও পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে।
.png)
আলুটিলা ও রিছাং ঝরনার আকর্ষণ
খাগড়াছড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আলুটিলা গুহা। মশাল বা টর্চ হাতে অন্ধকার গুহা পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। এখানকার নবনির্মিত 'মাউন্টেন ব্রিজ' বা ঝুলন্ত সেতুটি পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যদিকে, রিছাং ঝরনার শীতল পানিতে গা ভিজিয়ে পাহাড়ের ক্লান্তি দূর করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
স্থানীয় ও দূরপাল্লার পর্যটক চিত্র
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে ম্যানেজার ক্যাচিং মারমা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল কিছুটা কমে যাওয়ায় দূর-দূরান্তের পর্যটক প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম। তবে স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিতে জেলা শহর এখন উৎসবমুখর।
হোটেল গাইরিং-এর ম্যানেজার সীমা ত্রিপুরা জানান, ঈদের পরদিন থেকেই রুম বুকিং বাড়ছে এবং তারা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের আগমনে আশপাশের দোকানপাট, খাবারের হোটেল ও পরিবহন খাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কপি হাউস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও জুস কর্নারের তত্ত্বাবধায়ক জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকেই পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন বাইরের পর্যটকের তুলনায় স্থানীয় পর্যটকদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাছাকাছি সময় কাটাতে স্থানীয়রা বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রহিম বলেন, এ বছর বাইরের পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও আমরা বরাবরের মতো ঈদের পর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আলুটিলায় চলে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বন্ধুদের সঙ্গে সময়টা খুবই উপভোগ করছি, বেশ ভালো সময় কাটছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জামাল উদ্দিন বলেন, পাহাড় আর সবুজের টানেই এখানে আসা। বিশেষ করে আলুটিলা গুহা ও এখানকার শান্ত পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ ভালো।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ।
খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি স্পটে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। মাটিরাঙ্গার জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পুলিশ টহল চালু রয়েছে। পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার্থে সাইনবোর্ড, টয়লেট, বিশ্রামাগার ও প্রয়োজনীয় সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে।
খাগড়াছড়ি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী। পর্যটকদের মতে, যাতায়াত ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি করলে ভবিষ্যতে এ জেলায় পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। প্রশাসনও জেলার সৌন্দর্য বর্ধন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।