ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভোলায় তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা, হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:০০, ২ জুন ২০২৬
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা, হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা
ছবি সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা তাঁর জন্মস্থান ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বর্ষীয়ান এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

জানাজার আগে মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সংগঠককে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Advertisement

এর আগে, আজ বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে একটি হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় জমে। পরে একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ জানাজা ময়দানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জেলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি, স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আজহার আলী ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা ফাতেমা খানম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালে তিনি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।

শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতির সূচনা: ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে আইএসসি ও বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

কলেজ জীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং অশ্বিনী কুমার হলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ডাকসুর ভিপি (১৯৬৭-১৯৬৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

'বঙ্গবন্ধু' উপাধি ও গণ-অভ্যুত্থান: ডাকসুর ভিপি থাকাকালীন তোফায়েল আহমেদ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় রাজনীতি: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক চার অধিনায়কের একজন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিজের রাজনৈতিক সচিব নিযুক্ত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে ছিলেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সংসদীয় ক্যারিয়ার ও মন্ত্রিত্ব: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ মোট ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালেও তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে অসুস্থতার কারণে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা কমে আসলেও, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!