ইনাম মাহমুদ রিমন পৌর শহরের নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. ইসরাফিল ভূঁইয়া ও উপজেলার রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। রিমনের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর গ্রামে। এর আগেও রিমন ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। রিমনের এ সাফল্যে তার বাবা মা খুবই খুশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিমন ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরে হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অস্টম শ্রেণিতে জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন। এরপর ২০১৫ সালে একই বিদ্যালয়ে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ ও ২০১৭ সালে ঢাকার একটি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
.png)
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং মেধাতালিকায় ৫ম স্থান অর্জন করেন। রিমনের দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার এই সাফল্যে প্রশংসায় ভাসছে পুরো এলাকা।
মো. রিমন বলেন, আমার শৈশব বেড়ে উঠেছে নিজ গ্রাম বীরচন্দ্রপুরে। নিজ এলাকার হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর পড়াশোনার জন্য ঢাকায় চলে যাই। সেখানে একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) অনার্স ও মাস্টাস করা হয়। আমার এই সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সবার কাছে দোয়া প্রার্থী কর্মদক্ষতার দ্বারা যেন একজন আদর্শ মানবসেবায় কাজ করতে পারি।
এদিকে তার এই সাফল্যে খুশি পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনও বন্ধুবান্ধবরা। রিমনের এমন সাফল্যে প্রশংসায় ভাসছে গোটা ইউনিয়ন। বিশেষ করে হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সবার আশা তিনি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশের জন্য ভালো কাজ করে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সুনাম বয়ে আনবে।
হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান বলেন, রিমন আমাদের এই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার এই ফলাফলে আমরা সবাই খুশি।
রিমনের বাবা মো. ইসরাফিল ভূঁইয়া বলেন, আমার ছেলে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। সে যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।