বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ‘দিরাই JNR’ নামে একটি ফেসবুক পেজে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তার স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, তিনি মারা গেছেন। পরে একই পেজ থেকে তার মৃত্যু উল্লেখ করে একটি শোকবার্তাও পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্ট দুটি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
গুজবের বিষয়ে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সচিব মোহাম্মদ রুদ্র মিজান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। নাছির উদ্দিন চৌধুরী জীবিত ও সুস্থ আছেন। যারা এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
.png)
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীও মৃত্যুর গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক জীবনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। ওই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরকে পরাজিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।