পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টার থেকে মনিটরিং করা হতো মহাসড়কের চিত্র। এর সুফল পাওয়ার ফলে উদ্যোগ নেওয়া হয় শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের। বাইপাস মোড়, মাসকান্দা, চরপাড়া, ব্রিজের মোড়, তাজমহল, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজারের মোড়, টাউন হল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা।
তবে নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন বিকল হয়ে যাচ্ছে ময়মনসিংহ শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা সিসিটিভি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অনেক ক্যামেরার নেই অস্তিত্ব। এর সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। ফরে শহরে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। ঘটছে মারামারি, চুরি, ছিনতাইসহ, ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা।
.png)
গত ১৬ জুন ভোরে শহরের মিন্টু কলেজ রেলক্রসিংসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন এক যুবক। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
১৭ জুন মাসকান্দা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। ছিনতাইকারীরা তাকে ভয় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। পরেরদিন ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে শহরের গাঙ্গিনারপাড়ে অলকা নদী বাংলা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার মোবাইল মার্কেটে চুরি হয়। একটি দোকানের তালা ভেঙে প্রায় কোটি টাকার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল করে তুলেছে শহরের অচল সিসি ক্যামেরা।
কাঁচিঝুলি এলাকার ব্যবসায়ী সুজিত দাস জানান, রাতে এ এলাকা একদম নীরব থাকে। আমরা দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি না। কখন জানি দোকানপাটে চুরি, ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কারণ রাতে এখানে কোন পাহাড়াদার থাকে না। কোন সিসি ক্যামেরাও নেই। তাই সবসময় আতঙ্কে থাকি।
শুধু রাতের বেলাতে নয়, দিনের আলোতেও নিরাপদ নয় ময়মনসিংহ শহর। প্রকাশ্যে হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, খুনের মতো ঘটনা।
গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বাসিন্দা হান্নান সরকার জানান, বাসাবাড়িতে দিনে দুপুরে চুরির ঘটনা ঘটছে। সিসি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। অপরাধীদের অবস্থান চিহৃত করার সবচেয়ে সহজ ব্যবস্থা হলো সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরাগুলো যদি সচল থাকত তাহলে প্রশাসন মনিটরিং করে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে আটক করতে পারত।
আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী তুলসি চৌধুরী জানান, শহরে চলাচল করতে এখন নিরাপদ বোধ করি না। বাসায় না যাওয়া পর্যন্ত অভিভাবক দুশ্চিন্তায় থাকেন।
জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। দেখভালের অভাবে বেশির ভাগ ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই। যেগুলো আছে তার বেশির ভাগই অচল। কর্তৃপক্ষ যদি এগুলো নিয়মিত তদারকি করত, তাহলে এগুলো এখনও টিকে থাকতে পারত। ক্যামেরাগুলো পুলিশের কাজে সবচেয়ে বেশি সহায়ক। অপরাধীদের চিহৃত করতে সিসি ক্যামেরার বিকল্প নেই। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সিসি ক্যামেরা পুনরায় সচলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।
এএসপি আশরাফুল করিম জানান, সিসিটিভি প্রাইভেট ফান্ড থেকে লাগানো হয়েছিল। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নেটওয়ার্ক সমস্যা বা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসব ক্যামেরা কাজ করছে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৮৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩২টি সচল, বাকি ৫৬টি ক্যামেরা পুরোপুরি অচল পড়ে আছে। পুলিশ নিজস্ব ফান্ড থেকে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছে। কিন্তু নতুন করে সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। যদি সরকার থেকে কোন ফান্ড দেওয়া হয় তাহলে অচল সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে।