শহরের কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়ার আবদুল মজিদের স্ত্রী রোজিনা আকতার (৩০) পাহাড় ধসে মারা যান। আর রামুর ঈদগড়ের নুরুল ইসলামের ছেলে সাজিদুল ইসলাম (১৫) এর লাশ চারদিন পর ফুলেশ্বরী নদীর ঈদগাঁও গজালিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামু ঈদগড় ২ নং ওয়ার্ডের কোনার পাড়ার তরুণ সাজিদ বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা লাকড়ী ধরতে গত ৭ জুলাই ঈদগড়ের হোসনাকাটা পয়েন্টের ফুলেশ্বরী নদীতে নামে। সেদিন বিকেলের দিকে সে ভেসে যায়। স্থানীয় লোকজনও ফায়ার সার্ভিস মিলে চারদিন ধরে খুঁজে শনিবার বিকেলে ঈদগাঁও গজালিয়া নামক স্থান থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়।
.png)
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিরাতুল মাজদার জানান, পুলিশ ঘটনস্থলে পৌঁছার আগেই স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে ঈদগড়ে নিয়ে যায়।
এদিকে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, রামু থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় রোজিনা রান্না ঘরে রাতের খাবার তৈরি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ওপর থেকে আস্ত পাহাড় ধসে বাড়িতে চাপা পড়ে। এ সময় তার তিন সন্তান ছিল পাশের আত্মীয়ের বাড়িতে। যে কারণে তারা প্রাণে বেঁচে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আবদুল হাকিম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইউনুস জানান, তারা পাহাড় কেটে বন বিভাগের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বসতি করছিলেন। সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্বেও তারা পাহাড়ের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছিল। পাহাড় ধসের বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলেও কেউ মাটিচাপা পড়েছে কী না কেউ জানত না। পরে দু’ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে স্থানীয়ের সহায়তায় মাটি সরিয়ে রোজিনার লাশ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশ ঘটনার খবর পেয়েছে রাত ১১ টার দিকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ২টার দিকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছেন।
গত ৮ দিনের অবিরাম বর্ষণে জেলার উখিয়া কক্সবাজার সদর, চকরিয়া মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী শিশু ও রোহিঙ্গার সংখ্যা সর্বাধিক।