বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম ৩০০-৩১০ টাকা, করলা ৯০-১০০, টমেটো ১১০-১২০, বেগুন ১০০-১১০, বরবটি ১০০-১১০, কাঁচা মরিচ ৩৩০-৩৫০, আলু ২৮-৩০, শসা ৩৫-৪০ পেপে ৩৫-৪০, ধনিয়া পাতা ২০০-২১০, লতা ৫০-৪৫, গাজর ৯০-১০০, কাকরোল ৮০-৮৫, ঢ্যাঁড়স ৫০-৫৫ ,পটল ৬০-৬৫ , চিচিঙ্গা ৮০-৯০. মুখি ৭০-৭৫ লাউ প্রতি পিচ ৭০-৭৫, কাচকলা প্রতি হালি ৪০-৫০ ও মিষ্টি কুমড়া ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে।
.png)
বর্তমানে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পেঁপের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এর দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।
বাজারা করতে আসা রবিউল আলম বলেন, কাঁচা মরিচের বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সেইসাথে অন্যান্য সবজির দাম ও রয়েছে বেশি। বেশিরভাগ সবজি রয়েছে ৮০ টাকার বেশি।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজিতে মরিচ কেনা হয়েছে। কিন্তু আজ এসে দেখেন ৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বুঝতে পারলাম না আসলে কি হলো। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ক্রেতা মো. ফজলুর রহমান বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে বাজারে বেশীভাগ সবজির দাম বেড়েছে। আমাদের মতো সাধারণ লোকজন সবজি খাওয়ার দিন যেন শেষ হয়ে গেছে। যে টাকা নিয়ে বাজার করতে এসেছি এখন দেখছি দু-তিন রকম সবজি কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যাবে। অন্যান্য জিনিসতো আর কেনা যাবে না।
নির্মাণ শ্রমিক রবিন মিয়া বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ইচ্ছে করলে সবজি কেনা যায় না। আগে যেখানে ৩-৪ রকমের সবজি কেনা হতো এখন খুবই স্বল্প পরিমাণে কেনা হচ্ছে।
রিকশা চালক মো. রিপন বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো গরিবদের জীবনধারণ খুবই কঠিক হয়ে পড়েছে। সবজি কিনলে মাছ কেনা যায় না আর মাছ কিনলে সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মো. মহসিন মিয়া বলেন কিছুদিন আগে সবজির দাম অনেক কম ছিল। ১০০ টাকায় তিন ধরনের সবজি কেনা যেত। কিন্তু এখন তা ৩ শ টাকায় ও কেনা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাদের মতো সীমিত আয়ের লোকদের সবজি খাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
সবজি বিক্রেতা আজিজ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজি নষ্ট হয়ে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক অনেক কমে গেছে। তাছাড়া যে সমস্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে তা ও আবার বেশি দামে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।