বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার রাতের কোনো একসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে এসব ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হয়।
তবে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় এবং ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি।
.png)
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধনের কথা রয়েছে। সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এটি উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে বুধবার ওটি ও আশপাশের কক্ষগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অপারেশনের সামগ্রী পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ওষুধের মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। পরে বুধবার রাতে ওষুধগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও লাইভ করেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ফয়সাল মোস্তাক বলেন, ‘রাতে জানতে পারি, বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ওষুধ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে গিয়ে ভিডিও করি এবং লাইভে বিষয়টি তুলে ধরি।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে না, সেখানে রাতের আঁধারে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে দায়িত্বশীলরা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’
বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফয়সাল মোস্তাক আরও বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো কীভাবে দীর্ঘদিন পড়ে ছিল, কেন সময়মতো বিতরণ বা নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়নি এবং কার নির্দেশে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কী ধরনের ওষুধ, কী পরিমাণ ওষুধ এবং কত টাকার ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, ‘আগামী রোববার আমরা ওটি চালু করব। সংসদ সদস্য এটি উদ্বোধন করবেন। ওটি পরিষ্কার করার সময় ওষুধ ও অপারেশনের সামগ্রী পাওয়া যায়। সব ওষুধ ও সামগ্রীর মেয়াদ ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি তখন এখানে ছিলাম না। ওষুধ পোড়ানোর কোনো অনুমতিও আমি দিইনি। বেশির ভাগ ওষুধ ছিল পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ইনজেকশনের ভায়াল ও ভিটামিনজাতীয়। এগুলো স্টোরের ওষুধ ছিল না। ওটি ও পাশের কক্ষগুলোতে এসব ওষুধ পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওটির আশপাশের সব কক্ষ পরিষ্কার করা হয়েছে। ওষুধ পোড়ানোর ঘটনায় স্টোরকিপারের দায়িত্বে থাকা আব্দুর রাহাতকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, ‘সরকারি নিয়ম না মেনে ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনা জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো দীর্ঘদিন কীভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে পড়ে ছিল এবং নিয়ম মেনে সেগুলো কেন নিষ্পত্তি করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাতের আঁধারে ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন তারা।