এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিরাই থানা পয়েন্টসহ পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা গত ৬ আগস্ট জুলাই স্মরণে থানা পয়েন্টে সমাবেশ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
.png)
এরপর শনিবার জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একই স্থানে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেন তাঁর ছোট ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এ সমাবেশে সমর্থন জানান জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও বিএনপি নেতা আলী আকবর চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
মাসুক চৌধুরী সমর্থিতদের সমাবেশের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে দিরাই থানা পয়েন্টে মিছিল করেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা। এ নিয়ে শনিবার সকাল থেকেই পৌর শহরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড ও পৌর এলাকার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার।
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা থানা পয়েন্ট এলাকায় মিছিল ও পাল্টা মিছিল করেন। পরে দুপুরে বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে সমাবেশ করে মাসুক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও আলী আকবর চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য শোয়েব হাসান, ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অসোক রায়, জেলা যুবদল নেতা মহিউদ্দিন মিলাদ ও দিরাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদারসহ অনেকে।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, দিরাই শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মিছিল-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।
ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। মিছিলের পর এক পক্ষ সমাবেশ করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাতের সৃষ্টি হয়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।