এবার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে আরডিএ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া গেলে এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ প্রায় এক টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
গত ১৬ আগস্ট দুপুরে বানদীঘি এলাকায় পরীক্ষামূলক ফ্লাইহুইল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে স্থাপিত যন্ত্রপাতি ও মোটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ সময় দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালিয়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা দেখানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় আরও কিছু যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা গেলে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটিকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
গবেষক দলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিক গবেষণা, প্রকৌশল নকশার উন্নয়ন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সমন্বয় এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে প্রায় ১০০ কিলোওয়াট বৈদ্যুতিক ড্রাইভিং পাওয়ারের সঙ্গে ফ্লাইহুইলে আগে থেকে সঞ্চিত ঘূর্ণন শক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত তাৎক্ষণিক আউটপুট সক্ষমতা দেখানো হয়। এই শক্তি দিয়ে সাবমার্সিবল পাম্প, ওয়েল্ডিং মেশিন ও বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে দেখানো হয়।
ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে ভারী একটি চাকায় ঘূর্ণন গতিশক্তি সঞ্চয় করা হয়। প্রয়োজনের সময় সেই সঞ্চিত শক্তি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় মোটর, ভেরিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (ভিএফডি), গিয়ারবক্স, ভারী ফ্লাইহুইল, শ্যাফট, বিয়ারিং ও ১৫০ আরপিএমের স্থায়ী চুম্বক জেনারেটর ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষকদের কারিগরি পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার প্লান্ট স্থাপনের বিষয়টি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আকস্মিকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে, বড় মোটর চালুর সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলে কিংবা ভোল্টেজ ও কম্পাঙ্কের ওঠানামা এবং স্বল্পমেয়াদি বিদ্যুৎ ঘাটতির সময় ফ্লাইহুইলভিত্তিক ব্যবস্থা দ্রুত শক্তি সরবরাহে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও কৃষি সেচের ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের বিদ্যুৎ সহায়তা দিতে এ প্রযুক্তি সম্ভাবনাময় হতে পারে।
আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ প্রকৌশলী ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন। তবে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পূর্ণাঙ্গ করতে আরও কিছু যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। ২০০৪ সাল থেকে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ ব্যয় হয়েছে। একপর্যায়ে অর্থসংকটে কাজ কিছুটা থেমে যায়। প্রয়োজনীয় অর্থ ও যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে প্রযুক্তিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় এক টাকা ৫০ পয়সায় সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবহার না করে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, সেই চিন্তা থেকেই ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি মোটর চালু করে বিভিন্ন কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক হিসাবে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ প্রায় এক টাকা ৫০ পয়সা হতে পারে। আরডিএতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তির প্রকল্পটি জলবায়ু ট্রাস্টেও জমা দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তিনি প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখেছেন। তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়। মেশিন চালু করে এর কার্যকারিতাও দেখানো হয়েছে। এ উদ্যোগকে বড় পরিসরে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা দরকার।