খামারি কাইয়ুম মিয়া বলেন, এক সময় আমার অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। জীবিকার প্রয়োজনে কৃষিসহ দৈনিক পরিশ্রমের কাজ করেছি। সামান্য আয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হওয়ায় হাঁসের খামার করার চিন্তা করি। এরপর নিজের জমানো টাকা দিয়ে স্বল্প পরিসরে হাঁসের খামার করি। এরপর আর আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। গত প্রায় ১০ বছর ধরে হাঁস পালন করছি।
কাইয়ুম মিয়া বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে গত ৫ মাসে আগে ৩৮০ টি হাঁসের বাচ্চা ৬০ টাকা করে কেনা হয়। বাচ্চা কেনাসহ খামারটি করতে দেড় লাখ টাকা খচর হয়। নানা কারণে ৩০ হাঁস হারিয়ে যায়। বর্তমানে ৩৫০ হাঁস রয়েছে। এরমধ্যে দৈনিক ২শ হাঁস ডিম দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দৈনিক ৩ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করছি। এক একটি হাঁস ৫-৬ মাস পযর্ন্ত ডিম দেবে। আশা করছি প্রথম ধাপে প্রায় ২ লাখ টাকার ডিম বিক্রি করতে পারব।
.png)
এরপর বেশ কিছু দিন ডিম পারা বন্ধ থাকার পর পুনরায় ডিম দেওয়া শুরু করবে। আশা করছি দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রি হবে। তারপর এই হাঁসগুলো বিক্রি করা হবে। এক একটি হাঁস ৪০০-৪৫০ টাকা বিক্রি করে পুনরায় নতুন হাঁস আনা হবে। খামার থেকে যাবতীয় খরচ বাদে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।
কাইয়ুম বলেন, বিলের মধ্যে পানি থাকায় হাঁসগুলো সেখানে রাখা হয়। পানি শুকিয়ে গেলে হাঁসগুলোকে অন্যত্র নেয়া হয়। পানি উঠা জমিগুলো থেকে ঝিনুক শামুক, ধানসহ বিভিন্ন প্রকারের প্রাকৃতিক খাবার সহজেই পায়। তাছাড়া যেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে একটি ঝাপটে ঘর তৈরি করা হয়। ওই ঘরে রাতের বেলায় হাঁসগুলো রাখা হয়। পাশাপাশি গম, কুড়া, ধানসহ বিভিন্ন প্রকার খাবার দেওয়া হয়। দৈনিক প্রায় ৫শ টাকার খাবার দিতে হয়।
এদিকে খাবারের সময়ে মুলত হাঁসগুলোকে কয়েকবার আয়-আয় ডাক দিলে পাক পাক আওয়াজে এক-এক করে চলে আসে দূরে ছড়িয়ে থাকা হাঁসগুলো।
তিনি বলেন, খামারে হাঁসের ছোট খাট কোনো সমস্যা হলে নিজেই সমাধান করছি । বড় কোনো রোগ বালাই হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পশু সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন বলে জানান। হাঁস খামার করা সহজ হলেও ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ খামারে মরক লাগতে পারে। তবে সচেতন থাকলে ঝুঁকি এড়িয়ে ভালো মুনাফা করা যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকরা জানান, হাঁসের রোগ বালাই সাধারণত কম হয়। তবে কিছু মৌসুমে ডাক প্লেগ ও ডাক কলেরা রোগের সম্ভাবনা থাকে। নিয়য়মিত ভ্যাকসিন দিয়ে নিলে এসব মহামারী রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
আখাউড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরান ভূঞা বলেন, হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। যে কোনো বেকার নারী-পুরুষ হাঁস পালনে এগিয়ে এলে সবাইকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সাহায্য করা হবে। শুধু হাঁস পালন নয়, অন্যান্য যে কোনো খামার করলেই তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই খামার করে হাঁসপালনের মাধ্যমে লাভের মুখ দেখছেন। হাঁসের রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়।