সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাত প্রবাসীর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
.png)
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।
পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহগুলো রাত দেড়টার দিকে আত্রাইয়ে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এবং আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পারিবারিকভাবে তাদের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকার এসব পরিবারের পাশে থাকবে। সৌদি আরবে নিহত বাকি বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
শনাক্ত হওয়া সাতজন
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ; গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক; একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আবদুল জলিল সরদার।
রিয়াদের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একসঙ্গে এতজন বাংলাদেশির মৃত্যুতে দেশে থাকা স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরায় পরিবারগুলো শেষবারের মতো স্বজনদের দেখতে পেলেও হারানোর বেদনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।