কালীগঞ্জে কলাব্যবসায়ী শ্বশুরকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিজ কলার দোকানে বসে থাকা মজিদ মোড়ল (৬৫) নামের এক কলা ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার জামাইয়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রলি ব্যাগ ও কুড়াল ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫)।
নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত মোজাম্মেল উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে এবং মজিদের জামাতা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মজিদের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, মোজাম্মেল মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এ কারণে শাহানাজ একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সম্প্রতি তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন মোড়ল বলেন, স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে আসার পরও মোজাম্মেল সেখানে এবং পথেঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ নিয়ে তাঁর বাবা মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
.png)
নিহতের মেয়ে শাহানাজ বেগমের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে তার বাবা জামালপুর কলাপট্টিতে নিজের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন মোজাম্মেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোজাম্মেল ট্রলি ব্যাগ ও কুড়াল ফেলে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা মজিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মজিদ মোড়লকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।