পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনটি পৃথক আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
কাঁচপুর বাজার, বৈদ্যের বাজার ও সোনারগাঁও জাদুঘর এলাকায় মাদক উদ্ধার এবং মাদকসেবীদের আটকের লক্ষ্যে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।
.png)
পরে ২৯ আগস্ট আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৮ জনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা এবং অপর ৭ জনকে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. মিলন মিয়া (২৩), বিজয় দাস (২৬), মো. জুয়েল (২২), রুহুল আমিন (১৯), শাহীন (২৬), মো. আশিক (২২), রাব্বি মিয়া (২৫), বিল্লাল সরকার (২৭), মো. ইউসুফ (২৪), মো. আরিফ হোসেন (২৫), মো. রিপন (৩৭), আলামিন (২৫), ওমর ফারুক (৫০), কাজি রিপন (৪২) ও হৃদয় (৩২)।
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে এসও বটতলা ষষ্ঠ তলা ভবনের সামনে একটি সিএনজি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, ওই স্থানটি মাদকসেবনের স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযানে সেখান থেকে নাদিম হোসেন (৩৪) ও মিশন মিয়া (২৩) নামে দুজনকে আটক করা হয়।
পরে ২৯ আগস্ট তাদেরও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাতের আদালতে হাজির করা হয়। সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে আদালত দুজনকে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মাদকসেবন, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরো বলেন, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদকসেবন, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হবে।