সোমবার (৩১ আগস্ট) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ডেইলি বাংলাদেশকে কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটি গঠনের পূর্বে হেনস্তার শিকার রুমি আক্তার পলিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ডাকা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলি জানান, শুধু আমাকেই নয়, সভায় অলোক কুমার দাসকেও উপস্থিত করা হয়েছিল। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে এসে আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি কি না তা আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়। আমি এ প্রস্তাব নাকচ করে দেই।
.png)
এই তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজন ছিল না জানিয়ে পলি আরো বলেন, অভিযোগপত্রে উল্লেখিত উপস্থিত সহকর্মীকে ২৬ আগস্ট সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সত্য ঘটনা তুলে ধরেছেন এবং আমিও কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সরাসরি অলোকের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগের কথা তুলে ধরি। সেই সময় বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ এবং সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ স্বীকার করে বলেন যে এগুলো আমরা অস্বীকার করছি না যে অলোক করেনি। তখন অলোক কুমার দাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাহলে কেন এই তদন্ত কমিটি?
উল্লেখ্য, গ্লোবাল টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, ডেইলি বাংলাদেশ-এর বিশেষ প্রতিবেদক এবং দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক রুমি আক্তার পলিকে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর কথা বলে হেনস্তার অভিযোগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানানো হয়।
এদিকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্যসহ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার বিষয়ে গত ২৮ আগস্ট টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রুমি আক্তার পলি।
জানা গেছে, অভিযুক্ত অলোক কুমার দাস এর আগেও পলিকে অশালীন কথা বলেছেন। এছাড়া কিছুদিন আগে আরেক নারী সাংবাদিক নাহার চাকলাদারের সঙ্গেও অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গ্রীন টেলিভিশনের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও একই ধরনের আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অলোক কুমার দাস টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পর থেকে তার আচরণ নিয়ে সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেছেন।