প্রথা অনুযায়ী, প্রায় ২৭৪ বছর ধরে চলে আসছে এই নৌযাত্রা। জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ কাহারোল থেকে নদীপথে যাত্রা করে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ী মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমায় আবার কান্তনগরে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বিগ্রহকে।
আজও ছিল সেই একই পথ, একই নদী, একই ভালোবাসা। ঢেপা নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও আনন্দের ঝিলিক। নদীপথে নৌকার বহর যেন ভাসমান উৎসব। প্রতিটি ঘাটে থামার সময় ভক্ত-পুণ্যার্থীদের ভিড়ে নদীর দুই পাড় মুখর হয়ে ওঠে।
.png)
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ পেরিয়ে সন্ধ্যায় নৌযাত্রা পুনর্ভবা নদীর সাধুর ঘাটে গিয়ে থামবে।
কাহারোল থেকে আসা ভক্ত সেজোতি রায় বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে কান্তজিউ মন্দিরে আসতাম। আজ স্বামীর সঙ্গে এসেছি। দুজন মিলে একসঙ্গে পূজা-অর্চনা করেছি। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন আমাদের পরিবার সুখে-শান্তিতে থাকে এবং সবার মঙ্গল হয়।’
দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা রাজেশ কুমার রায় বলেন, ‘এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে মিশে থাকা আবেগ।’
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা তাপস পাল বলেন, কান্তজিউ বিগ্রহের দর্শনে এসে তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কামনা, সারা পৃথিবী যেন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আসুক আনন্দ ও উল্লাসের ধারা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সবাই যেন মিলেমিশে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে এটাই ছিল আমাদের পবিত্র প্রার্থনা।’
দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রনজিৎ সিংহ বলেন, দিনাজপুরের মহারাজা রাজা প্রাণনাথ ১৭০৪ সালে কান্তনগর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তাঁর পোষ্যপুত্র রাজা রামনাথ ১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। সেই সময় থেকেই জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ রাজবাড়ীতে নিয়ে গিয়ে পূজা করার ঐতিহ্য শুরু হয়। রাসপূর্ণিমার আগে আবার বিগ্রহকে মন্দিরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী মেলাও বসে।
সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) মনিরুজ্জামান বলেন, দিনাজপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কান্তজিউ মন্দির থেকে রাজবাড়ীর মন্দির পর্যন্ত এবং নদীর দুই পাড়জুড়ে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।