ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর র‍্যালি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর র‍্যালি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ রং-বেরঙের পোশাক পরে ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশ নেন। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া রিমা ঘোষ ও জয়িতা পাল বলেন, কয়েক হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানব অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অত্যাচারী ও দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করাই ছিল তাঁর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য। তাই দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র।

Advertisement

তারা বলেন, জন্মাষ্টমীর দিন তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করবেন, উপবাস পালন করবেন এবং নিজ নিজ বাড়িতে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে পবিত্র এই তিথি উদযাপন করবেন।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া পুরোহিত প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে বাসুদেব ও দেবকীর ঘরে কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। দেবকীর অষ্টম গর্ভে তাঁর আবির্ভাব হওয়ায় এই তিথিকে জন্মাষ্টমী বলা হয়।

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ যখন কংসের কারাগারে আবির্ভূত হন, তখন দুরাচারী কংসের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। পৃথিবী থেকে দুষ্টের দমন ও সজ্জনদের রক্ষার জন্যই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন—এটাই জন্মাষ্টমীর মূল তাৎপর্য।

তিনি আরও বলেন, ‘এই শুভ তিথিতে দেশের সব মানুষকে শুভেচ্ছা জানাই। সবার মঙ্গল কামনা করছি। সবাই যেন ভালো থাকে, দেশ যেন ভালো থাকে—এটাই আমাদের প্রার্থনা।’

এর আগে র‍্যালির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, দেশটা আমাদের সবার। আমরা চাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি, আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উপস্থিত থাকতে। এই দেশ যেমন আমাদের, তেমনি আপনাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমি আপনাদের পাশে আছি এবং আগামী দিনেও পাশে থাকব।’

শ্যামল বলেন, মানবতার প্রত্যয় নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। সেই মানবতাবোধ সবার মধ্যে জাগ্রত হোক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

এ সময় তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পি বি রায় সুপ্রিয়, জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনের কর্মসূচি রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!