ভুক্তভোগীরা জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টির পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময়েও পানি সরছে না। এতে দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। টানা বর্ষণের কারণে শহরের বাজার ও অধিকাংশ দোকানপাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। একইভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
.png)
রিকশাচালক হান্নান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। যাত্রী না পাওয়ায় আমরা চরম বিপদের মধ্যে পড়েছি।’
শহরের মাসুমপুর এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ চলায় বৃষ্টিতে সড়কটি কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে ওই সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শহরের কোবদাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা ও ড্রেন উঁচু হওয়ায় আমাদের বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না।’ তিনি জানান, অনেকেই বালতি দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়া পানি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করছেন।
তাড়াশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, চলমান বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাবও এর অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ—দুটিই কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, নদী ও খালের সঙ্গে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ করা হয়নি। ফলে ভারী বৃষ্টির সময় পানি দ্রুত শহরের বাইরে বের হতে পারে না।
সিরাজগঞ্জ পৌর প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। তবে ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা-মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে, যমুনা নদীর পানিও বাড়ছে। এতে শহরের পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, শুধু নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করে সিরাজগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আধুনিক ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি নদী-খালের সঙ্গে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
তা না হলে ভারী বর্ষণ হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।