স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়ার করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাটে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর এবং বিএনপি ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। দুই পক্ষই নিজেদের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান অতিথি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
বিএনপির আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ ঘাটে ১৭তম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু তাঁদের মঞ্চের পাশে আরেকটি মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেন।
.png)
সেলিম রেজা বলেন, ‘উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন নৌকাবাইচ বন্ধ ঘোষণা করে ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। নৌকাবাইচ আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আমরা সবাই মিলে প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের চেষ্টা করছি।’
অন্যদিকে জামায়াত আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, তাঁরা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকাবাইচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁর প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে নৌকাবাইচ বন্ধ করা হয়েছে। উভয় পক্ষ প্রশাসনের কাছে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ও জামায়াত একই স্থানে পৃথক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। কোনো পক্ষই প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়ার পর থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানায়।
তিনি বলেন, ‘এ কারণে উপজেলা প্রশাসন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালীগঞ্জ নৌকা ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।’
এদিকে নৌকাবাইচকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও দুই রাজনৈতিক দলের পৃথক আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের এই আয়োজন আবারও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।