ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বস্তায় তুলে বাঁচল কুকুর

দুই দিন সেপটিক ট্যাংকে, এক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই দিন সেপটিক ট্যাংকে, এক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুই দিন ধরে অরক্ষিত গভীর সেপটিক ট্যাংকের গর্তে আটকে ছিল একটি কুকুর। চারদিকে ঝোপঝাড়ে ঢাকা থাকায় বাইরে থেকে বোঝারও উপায় ছিল না সেখানে কোনো প্রাণী আটকা পড়েছে। অবশেষে পথচারীদের কানে পৌঁছানো অস্বাভাবিক শব্দের সূত্র ধরে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় কুকুরটিকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এক গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় কয়েকজন।

রোববার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশে প্রায় এক বছর ধরে সেপটিক ট্যাংকের গভীর গর্তটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় গর্তটির চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় গজিয়ে ওঠে। এতে বাইরে থেকে সেটি সহজে দেখা যায় না।

Advertisement

শুক্রবার দুপুরে অসাবধানতাবশত কুকুরটি ওই গভীর গর্তে পড়ে যায়। এরপর টানা দুই দিন সেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান কয়েকজন পথচারী। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ঝোপঝাড় সরিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখেন, পানির মধ্যে আটকে আছে কুকুরটি। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রমজান আলীকে বিষয়টি জানানো হয়।

খবর পেয়ে রমজান আলী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর শুরু হয় কুকুরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা। দড়ি, প্লাস্টিকের বস্তা ও কাঠের টুকরা ব্যবহার করে তৈরি করা হয় অস্থায়ী উদ্ধারব্যবস্থা।

উদ্ধারকারীরা কয়েক দফায় কুকুরটিকে বস্তার সঙ্গে আটকাতে সক্ষম হন। কিন্তু গর্তের গভীরতা ও কুকুরটির নড়াচড়ার কারণে ওপরে তোলার সময় কয়েকবার আবার নিচে পড়ে যায় সেটি। এতে উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টাও বারবার ব্যর্থ হয়।

শেষ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে সতর্কতার সঙ্গে দড়ির সাহায্যে বস্তাটি ওপরে টেনে তোলা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর জীবিত অবস্থায় গর্ত থেকে বের করে আনা হয় কুকুরটিকে।

উদ্ধারের পর কুকুরটি কিছুক্ষণ ঘটনাস্থলে দুর্বল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে দৌড়ে লোকালয়ের দিকে চলে যায়।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া গণমাধ্যমকর্মী রমজান আলী বলেন, বিপদে পড়া পশুপাখিকে উদ্ধারের প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কুকুরটিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। নানা চেষ্টার পর কুকুরটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরে সবাই আনন্দিত হয়েছেন।

পরিবেশকর্মী ও নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, পশুপাখি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিপদগ্রস্ত প্রাণীকে রক্ষা করা মানুষের মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে গভীর সেপটিক ট্যাংকের গর্তটি অরক্ষিত পড়ে থাকলেও সেটি নিরাপদ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, একইভাবে কোনো শিশু কিংবা মানুষও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই দ্রুত গর্তটি ঢেকে দেওয়া বা নিরাপদ বেষ্টনী দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!