সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক রাকিবুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ফলে সিফাতকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
সিফাতের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
.png)
সিফাতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম রবি বলেন, ‘আমরা তাঁর জামিন চেয়েছিলাম। আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন।’
তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সিফাতের বক্তব্য কিংবা গালিগালাজের যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা মামলার এজাহারে উল্লেখ নেই। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট রবি আরও বলেন, ৪ জুনের একটি মামলায় সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকির রহমান সিফাতকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা হিসেবে সিফাত কাজ করেছেন এবং ৫ আগস্টের আগে থেকেই তিনি ‘ফ্যাসিস্টদের হয়ে কাজ’ করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান দাবি করেন, সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির সক্রিয় কর্মী। তাঁর ভাষ্য, বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সিফাত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। আন্দোলনের ছবি ও ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আলী নাছের খান আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ট্যাগ ব্যবহার করে সিফাতকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাসা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানা-পুলিশ। রাত ৯টার দিকে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।