সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ফেরিটি। দৌলতদিয়া ঘাটের ৪ নম্বর পন্টুনে ভেড়ানোর সময় পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সেটি স্রোতের টানে ভাটির দিকে চলে যায়।
ফেরির চালক মো. রতন জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিটি পন্টুনে নিরাপদে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ সময় ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দেয়। স্রোতের কারণে ফেরিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাটির দিকে নিয়ে নোঙর করা হয়।
.png)
তিনি বলেন, ফেরিতে থাকা যাত্রী ও চালকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও ফেরিটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরে আইটি-৯৬ টাকবোটের সহায়তায় দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ফেরিটিকে নিরাপদে পাটুরিয়া ঘাটে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
তিনি জানান, মাঝনদী পার হওয়ার পর তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ফেরিটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে স্রোতের টানে ফেরিটি ভাটির দিকে যেতে থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে নোঙর করা হয়।
তিনি আরও জানান, ফেরিটিতে আটটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি ট্রাক ও তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল। পদ্মায় মাঝে মধ্যে তীব্র স্রোতের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাটের ৪ নম্বর ফেরিঘাটে ভেড়ার আগে তীব্র স্রোতের মধ্যে ফেরিটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর স্রোতের টানে ফেরিটি কয়েক কিলোমিটার ভাটির দিকে চলে যায়। এতে ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফেরিতে থাকা রাবেয়া পরিবহনের সুপারভাইজার মোহাম্মদ রিয়াজ বলেন, ‘হঠাৎ দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরিটি পন্টুনে ভিড়তে পারেনি। পরে তীব্র স্রোতে ফেরিটি প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ভাটির দিকে চলে যায়। এতে বাসে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’
প্রায় চার ঘণ্টা পর টাকবোটের সহায়তায় ফেরিটি নিরাপদে পাটুরিয়া ঘাটে ফিরে এলে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।