ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ছয় দশকেও সেতু হয়নি, সুজুনি খালে দুর্ভোগে দুই জেলার ৫০ হাজার মানুষ

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৩:০৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছয় দশকেও সেতু হয়নি, সুজুনি খালে দুর্ভোগে দুই জেলার ৫০ হাজার মানুষ
সেতু না থাকায় সুজুনি খাল পারাপারে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় দুই জেলার হাজারো মানুষকে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের সুজুনি খালের ওপর প্রায় ছয় দশকেও নির্মাণ হয়নি কোনো সেতু। এতে কাজিপুর ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চার ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয়দের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়া সত্ত্বেও খালটির ওপর সেতু না থাকায় স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যেতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে খালের পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

সুজুনি খালটি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত। এই খাল পার হয়েই কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ও সাতপোয়া ইউনিয়নের মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হয়।

বর্ষাকালে খাল পারাপারে স্থানীয়দের প্রধান ভরসা খেয়ানৌকা। তবে বিকেলের পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি প্রয়োজনে পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয় বাড়তি বিড়ম্বনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের পূর্ব তীরে একটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়মিত খালটি পার হতে হয়। হাটের দিন একসঙ্গে অনেক মানুষকে নৌকায় পারাপার হতে হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, বর্ষাকালে খালে খেয়ানৌকা চলাচল করে। নৌকায় খাল পার হতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। বছরের অন্য সময় খাল শুকিয়ে গেলেও ভালো রাস্তা না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমে না।

তিনি বলেন, ‘সারা বছরই মানুষের কষ্ট। বর্ষায় খালে পানি থাকলে পারাপারে সমস্যা, আবার পানি না থাকলেও যাতায়াতে সমস্যা। বর্ষাকালে এখানে সেতু খুব দরকার। একই সঙ্গে সেতুর দুই পাশের রাস্তাও সংস্কার করা প্রয়োজন।’

চরগিরিশ এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম বলেন, বন্যার সময় বিদ্যালয় ও এএফএম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সমস্যা হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন বলে, ‘নৌকা ধরতে না পারলে প্রায়ই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারি না। বর্ষাকালে আমাদের খুব কষ্ট হয়।’

স্থানীয়দের মতে, শুধু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নয়, সেতুর অভাবে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, খালের দুই তীরের কৃষকদের জমিতে চাষাবাদ এবং উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নেওয়ার জন্য নিয়মিত খাল পার হতে হয়। ফসল তোলার মৌসুমে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়।

মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল বলেন, খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে কৃষকেরা সহজে ও কম সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত ফসল পাঠাতে পারবেন। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনেও খরচ ও সময় কমবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি সরিষাবাড়ী ও কাজিপুর উভয় এলাকার মানুষের জন্যই প্রয়োজন। তবে সেতুর স্থানটি কাজিপুর উপজেলার সীমানায় হওয়ায় সরিষাবাড়ী এলজিইডির সেখানে সেতু নির্মাণের সুযোগ নেই। তাঁর মতে, ওই স্থানে সেতু প্রয়োজন।

কাজিপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ বলেন, সুজুনি খালের ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, সেতুটি নির্মিত হলে দুই জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!