ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেতুর অভাবে দুই জেলার মানুষের চরম দূর্ভোগ

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী
প্রকাশিত: ১৩:০৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেতুর অভাবে দুই জেলার মানুষের চরম দূর্ভোগ
সেতুর অভাবে দুই জেলার মানুষের চরম দূর্ভোগ। ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

প্রায় ছয় দশক যাবৎ খালের উপর একটি সেতুর অভাবে দুই জেলার ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। খালটির নাম সুজুনি খাল। এটির অবস্থান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী গ্রামে। এই খালে সেতু না থাকায় কাজিপুরসহ জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ প্রায় ছয় দশক ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।


কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ও সাতপোয়া ইউনিয়নের মানুষজনকে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের জন্য নিয়মিতই এই খাল পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খালের পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা। 

Advertisement


জরুরি সেবা ও দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে খাল পারাপারে তাঁদের ভরসা নৌকা। বিকেল হলেই এই পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। তখন কারো হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কোন গতি থাকে না।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের পূর্ব তীরে একটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায়শই বিশেষ করে হাটের দিন একসাথে অনেকজনকে এই খাল পার হতে হয়।


কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, শুধু বর্ষাকালে খালে খেয়ানৌকা চলে এবং পার হতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। বছরের বাকি সময় খাল শুকিয়ে গেলেও উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় চলাচলে দুর্ভোগ থেকেই যায়।


সারা বছরই মানুষের কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খালে পানি থাকলেও পারাপারে সমস্যা, না থাকলেও যাতায়াতে সমস্যা। কারণ বর্ষায় এখানে সেতু দরকার। আর সেতুর উভয় পাশে রাস্তারও সংস্কার জরুরি।


চরগিরিশ এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম জানান, বন্যার সময় নিজের বিদ্যালয় ও এএফএম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের যাতায়াতে সমস্যা হয়।


ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন জানায়, নৌকা ধরতে না পারলে প্রায়ই আমাদের স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারিনা। বর্ষাকালে আমাদের খুব কষ্ট হয়।


মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান হবি জানান, খালের দুই তীরের কৃষকদেরও জমি চাষাবাদ এবং ঘরে তোলা ফসল পরিবহনের জন্য নিয়মিত এটি পার হতে হয়। সেতু না থাকায় বিশেষ করে ফসল তোলার মৌসুমে কৃষিপণ্য পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।


মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহজে ও দ্রুত তাঁদের উৎপাদিত ফসল পাঠাতে পারবেন।


এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলারএলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সরিষাবাড়ীও কাজিপুর উভয় এলাকার মানুষের জন্যই এই সেতুটি প্রয়োজন। তবে এলাকাটি কাজিপুরের মধ্যে পড়ায় সেখানে আমাদের সেতু নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। তবে সেখানে সেতু দরকার।


কাজিপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ জানান, খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা তৈরি করে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!