ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জামালপুরের কাশফিয়ার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:১৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬
জামালপুরের কাশফিয়ার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত জামালপুরের মেয়ে কাশফিয়ার। ছবি-ডেইলি বাংলাদেশ।

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচুড়া ইউনিয়নের মোমেনাবাদ মেয়ে কাশফিয়া জান্নাত কুহু এবার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে।

এর আগে দুই বোনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আগেই আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এসেছিল মাদারগঞ্জ। কাশফিয়ার শিক্ষক দম্পতি কাইয়ুম হিলালী মাইকেল ও শিউলী খাতুনের সন্তান। ঢাকায় পড়াশোনা করলেও নিজের শেকড়ের সাথে যোগাযোগ রেখে শিশু অধিকার ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে কাশফিয়া।
কাশফিয়া জান্নাত কুহু শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬ এর প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে সে।
শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইট হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৭ শিশু সাংবাদিকের মধ্যে কাশফিয়া জান্নাত কুহুও রয়েছে। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ২শ ৯৮জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছে ৪২জন।
কিডস রাইটসের ২০২৬ সালের মনোনয়ন প্রোফাইল অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে বেড়ে উঠার সময় কাশফিয়া তার আশপাশের মেয়েদের বাল্যবিয়ের শিকার হতে এবং শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে দেখেছে। বিষয়গুলো তাকে শিশু অধিকার ও লিঙ্গ সমতার পক্ষে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
কিডস রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কাশফিয়া ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকটি বাল্যবিয়ে বন্ধে হস্তক্ষেপ করেছে। একই সময়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়া অসংখ্য শিশুকে আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতেও সহযোগিতা করেছে। 
পাশাপাশি উঠান বৈঠক ও স্থানীয় সেমিনারের মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে। কাশফিয়া জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কাশফিয়া শিশু সাংবাদিক হিসাবেও নিয়মিত শিশু অধিকার, বাল্যবিয়ে, নারী-পুরুষের বৈষম্য, শিক্ষা ও পরিবেশের মত বিষয় নিয়ে কাজ করছে। হ্যালোতে তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক, শিশুদের অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিষয় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে সে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিবেদন করেছে।
শুধু এ বছর নয়, কাশফিয়ার শিশু অধিকার কেন্দ্রিক কাজের স্বীকৃতি মিলেছিলো আগের বছরও। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্যও জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের কাশফিয়া জান্নাত কুহু মনোনয়ন পেয়েছিল। সে সময় গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় কাজের জন্য তার নাম মনোনীত হয়।
কাশফিয়ার বড় বোন কারিমা ফেরদৌসী কেকাও শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। দুই বোনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আগেই আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এসেছিল জামালপুরের মাদারগঞ্জ।
জামালপুরের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে এসে কাশফিয়ার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু অধিকার নিয়ে তার কাজ এখন শুধু মাদারগঞ্জ কিংবা জামালপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার অঙ্গনেও জায়গা করে নিয়েছে তার নাম।
কাশফিয়ার এই স্বীকৃতিতে নতুন করে সামনে এসেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জের নামও। স্থানীয়ভাবে শিশুদের অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ সে চালিয়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মনোনয়ন সেটিকেই আরও বড় পরিসরে তুলে ধরেছে।
কাশফিয়া জান্নাত কুহুর গল্প তাই শুধু একজন শিশুর আন্তর্জাতিক মনোনয়নের গল্প নয়। এটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে শিশু অধিকার নিয়ে উঠে আসা এক নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বরের গল্প।
এবার কাশফিয়ার সাথে একই পুরস্কারের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে হ্যালোর আরও ছয় শিশু সাংবাদিক। তারা হল- অরণ্য আবীর খান প্রাপ্য, ফারাবি জাবিন সায়েরী, জয়া বণিক, সুদীপ্ত দেবনাথ, মুশফিকুর রহমান ও জামিউল হাসান আরাফ। হ্যালোর ৭জনসহ বাংলাদেশ থেকে মোট ৪২জনের নাম রয়েছে এবারের প্রাথমিক মনোনয়নে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক শিশু অধিকার সংস্থা কিডস রাইটস প্রতিবছর শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তরুণদের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০০৫ সালে এই পুরস্কার চালু হয়। প্রতিবছর একজন বিজয়ীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সাথে একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি তুলে দেন।
২০২০ সালে বাংলাদেশের নড়াইলের সাদাত রহমান আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের সুরক্ষায় কাজের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি এই পুরস্কার পান। সাদাতও একসময় হ্যালোর শিশু সাংবাদিক ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জামালপুর
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!