খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং-মাদকসহ নানা অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি
র্যাগিং, মাদক সেবন, মারধর ও হয়রানির অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের অর্থদণ্ড ও অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৃথক কয়েকটি ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোর করে উপস্থিত থাকতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের (এমসিজে) তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: মূল প্রতিবেদনে ৩০ শিক্ষার্থীকে শাস্তির কথা বলা হলেও বিস্তারিত ঘটনায় উল্লেখিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শাস্তির হিসাবের সঙ্গে তা পুরোপুরি মেলে কি না, প্রকাশের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে অভিভাবকের মুচলেকার শাস্তির বিষয়টি বিস্তারিত অংশে কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা স্পষ্ট করা দরকার।