ঢাকা,  সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চতুর্থ দিনেও উত্তাল গাজীপুর,১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৬, ২ নভেম্বর ২০২৬
চতুর্থ দিনেও উত্তাল গাজীপুর,১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎসহ কোনাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও মজুরি নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই তাঁদের প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করতে হয়। শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দিতে হবে।

শ্রমিকদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহিরাগতরা শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!