চবির হীরকজয়ন্তী নিয়ে শিবিরের ১২ দফা দাবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আসন্ন হীরক জয়ন্তী উদযাপনকে শিক্ষার্থীবান্ধব, সর্বজনীন করে তুলতে ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চবি শাখা।
৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হীরক জয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বরাবর লিখিতভাবে এসব দাবি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ।
স্মারকলিপিতে আগামী ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হীরক জয়ন্তীর আয়োজন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ হলো:
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং পুরো ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা।
বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধ করা।
ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট ও স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান।
প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা।
অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের যাতায়াতে পর্যাপ্ত পরিবহন (শাটল ট্রেন ও বাস) এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সুশৃঙ্খল যানবাহন ও পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনে আহতদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
জুলাই বিপ্লবে শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং চবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্মারক গ্রন্থে তুলে ধরা।
স্মারক গ্রন্থে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস এবং চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের পরিচিতি অন্তর্ভুক্ত করা।
চাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস ও সর্বশেষ ক্যাবিনেটের প্রতিনিধিদের সম্মানজনক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা।
আগামী ১৮ নভেম্বরের আগেই প্রস্তাবিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' দৃশ্যমান করা।
চট্টগ্রাম জেলার সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সংগীতের আয়োজন রাখা।
বিগত সময়ে চবিতে হল দখল, খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যাতে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উল্লেখিত দাবিসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হীরক জয়ন্তীর আয়োজন আরও অর্থবহ, সুশৃঙ্খল ও সর্বজনীন হয়ে উঠবে।