বৈধপথে পাঠানো রেমিট্যান্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে রেমিট্যান্স গেছে ১০ কোটি ডলার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, অনেক ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলংকান ও কিছু চীনা অনুমতি ছাড়াই বাংলাদেশে কাজ করছেন। বৈধপথে অর্থ পাঠাতে না পারায় তারা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। এই চ্যানেলের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠানো অর্থের পরিমাণ যোগ করলে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্যের তুলনায় অন্তত ২০ গুণ বেশি হতে পারে।
.png)
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ওয়ার্ক পারমিটের ১৫ হাজার ১২৮ আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। আবেদনকারীরা এসেছেন ১০৬টি দেশ থেকে। বিডা নিবন্ধিত শিল্প প্রকল্প, বাণিজ্যিক কার্যালয় ও অন্যান্য সংস্থায় নিযুক্ত বিদেশিদের জন্য এ অনুমতি দেওয়া হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা আনুমানিক ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার পাচার করেন। অর্থ পাচারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হলে বাংলাদেশ থেকে বাইরে অর্থ যাওয়ার প্রকৃত চিত্রের তুলনায় বিশ্বব্যাংকের তথ্য খুবই নগণ্য।
তিনি আরো বলেন, বেসরকারি খাতে অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশি আছেন। তাদের অধিকাংশই বাধ্যতামূলক ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই কাজ করছেন। পদ্ধতিগত ত্রুটি ও জটিলতা, সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের সক্ষমতা ও ইচ্ছার অভাবের কারণে এ খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেন, বিদেশি কর্মীরা বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স নিজ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। সেই তুলনায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার খুবই কম।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে চীনে ৯৯ কোটি ২০ লাখ ডলার, ইন্দোনেশিয়ায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মালয়েশিয়ায় ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার ও ভারতে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছে। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ছিল- ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, থাইল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিল।
বহির্মুখী রেমিট্যান্সের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের তথ্যকে ‘সত্যের ভুল ব্যাখ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।
তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিক পেমেন্ট বা সার্ভিস পেমেন্টের ক্ষেত্রে যখনই বিধিনিষেধ থাকবে, তখনই এমনটি ঘটতে বাধ্য। এটি আন্ডারগ্রাউন্ড সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকায় এর প্রসার ঘটছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক এ কর্মকর্তা আরো বলেন, বিদেশি কর্মীদের দেওয়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধা চলতি হিসাব রূপান্তরযোগ্য পেমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ প্রায় ২ দশক আগে এই প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিতে রাজি হয়। তবে ওয়ার্ক পারমিশন মেকানিজমের মাধ্যমে দেশের বাইরে রেমিট্যান্স পাঠানো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বলেন, যেসব কোম্পানি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে তাদের আইন মেনে কাজ করা উচিত। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, যেন বিদেশিরা অনুমতি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহ পান।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত বছর বাংলাদেশ ২ হাজার ১৫০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। আগের বছর পেয়েছিল ২ হাজার ২২১ কোটি ডলার।