অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশে প্রতি বছর কমছে গলদা ও বাগদা চিংড়ি রফতানি। আর সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে অপেক্ষাকৃত সস্তা ভেনামির চিংড়ি।
এক চিংড়ি চাষি বলেন, আমরা আগে যেভাবে চিংড়ি চাষ করতাম এখন সেভাবে করতে পারছি না। এর অন্যতম কারণ এখন পোনার দাম অনেক বেশি।
.png)
আরেক চিংড়ি চাষি বলেন, যখন উৎপাদন বেশি ছিল তখন দাম কম ছিল। কিন্তু এখন মাছ সংকট ও গরমের কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে।
অর্ধেকে নেমেছে গলদা-বাগদা চিংড়ির দাম-
অর্ধেকে নেমেছে গলদা-বাগদা চিংড়ির দাম বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির পর থেকেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে গলদা ও বাগদা চিংড়ির বাজারে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় এর দাম নেমে আসে অর্ধেকে। সেই সুযোগই নেয় ভেনামি চিংড়ি চাষিরা। দামে সস্তা হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার চলে যায় তাদের দখলে।
গলদা-বাগদা চিংড়ির ঘের ব্যবসায়ীরা জানান, আগে গলদা বড় সাইজ ছিল ১২০০ টাকা কেজি, এখন ৫৫০ টাকা। ছোট সাইজ ৭০০ টাকা ছিল, এখন ৪০০ টাকা। বাগদা বড় সাইজ ছিল ১১৫০ টাকা, এখন ৫০০ টাকা। ছোট সাইজ ছিল ৬৫০ টাকা, এখন ৪৫০ টাকা।
ভেনামি চিংড়ির বাজার দখল
গলদা ও বাগদা চিংড়ির চাহিদা কমায় দ্রুত বিশ্ববাজার দখলে নেয় ভেনামি চিংড়ি। দামে সস্তা হওয়ায় দিনদিন ভেনামি চিংড়ি চাষে আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। আগে গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষ করতেন এমন অনেকেই ঝুঁকেছেন ভেনামি চাষে।
২০২১ সালে খুলনার পাইকগাছায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় হোয়াইট গোল্ড বা সাদা সোনা নামে পরিচিত ভেনামি চিংড়ি চাষ। লাভজনক হওয়ায় ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরাও বেশ কয়েক বছর ধরে ভেনামি জাতের চিংড়ি কিনছেন।
কমবে বৈদেশিক মুদ্রা
মৎস্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে ২০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন হিমায়িত চিংড়ি রফতানি হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রফতানি হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ৩৫৭ মেট্রিক টন।
রফতানিকারকদের দাবি, যেভাবে রফতানি হচ্ছে তাতে গত বছরের তুলনায় খাতটি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কম আসবে। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক মন্দায় সস্তা ভেনামির দিকে ঝুঁকছেন বিশ্বভোক্তারা।
দেশেও কমেছে গলদা-বাগদার চাহিদা
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এস হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববাজারের চাহিদার জায়গাটা ধরে নিয়েছে ভেনামি চিংড়ি। কম দামে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি দেশেও কমেছে গলদা-বাগদার চাহিদা। আমাদের বাগদা এবং গলদা চিংড়ি আগে মানুষের ঘরে ঘরে রান্না হতো, বিভিন্ন রেসিপিতে ব্যবহার হতো। কিন্তু অধিক দামের কারণে এটা ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে হোটেল-রেস্টুরেন্ট কিংবা পর্যটক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে।
আগে দেশের চাহিদা পূরণ, পরে রফতানি
এদিকে মৎস্য অধিদফতরের দাবি, দেশেই বেড়েছে বাগদা গলদার চাহিদা। তাই বিদেশে যাচ্ছে না এসব দেশীয় মাছ।
মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) ড. মো. আবদুর রউফ বলেন, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলেই আমাদের অভ্যন্তরীণ চিংড়ি উৎপাদন বেড়েছে। সেই সঙ্গে মানুষও চিংড়ি খেতে পছন্দ করছে, তারা দেশীয় চিংড়িগুলো ক্রয়ও করছে বেশি। এতে স্বাভাবিকভাবেই রফতানি কিছুটা কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু দেশে চাহিদা বেশি এবং জনগণও চিংড়ি খেতে পছন্দ করছে, সেহেতু দেশের চাহিদা পূরণ করেই আমরা বিদেশে রফতানি করবো।