ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে ঋণখেলাপিদের তথ্য চাইল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫২, ২ জুন ২০২৪
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে ঋণখেলাপিদের তথ্য চাইল ইসি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উদ্বেকজনক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। নানান অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় খেলাপি বাড়লেও আদায় হচ্ছে না মোটেও। এবার স্থানীয় সরকারের কয়েকটি পৌরসভার সাধারণ ও বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন উপলক্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে ঋণখেলাপিদের তথ্য জানতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান এরই মধ্যে নির্দেশনাটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে পাঠিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঞ্চন পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন, বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভার মেয়রের শূন্য পদ ও পাবনা জেলার ভাগুরা পৌরসভার মেয়রের শূন্য পদসহ চারটি পৌরসভার সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের শূন্য পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসারে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। 

উল্লেখিত নির্বাচনে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা মনোনয়নপত্র দাখিল করলে যেন তাদের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, তার জন্য আইনে নির্ধারিত সব ব্যাংক থেকে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা আবশ্যক।

Advertisement

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বিকেল ৪টার পর মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের নাম, পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বউদ্যোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করার জন্য এবং সে আলোকে বিভিন্ন ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

এই অবস্থায় উল্লেখিত নির্বাচন উপলক্ষে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন কিংবা তার পূর্বে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারের দফতরে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

প্রসঙ্গত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রেখে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতিমালার আওতায় যারা ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে শনাক্ত হবেন তারা বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না। ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে থাকবে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা থাকবে কোম্পানি গঠনে। গাড়ি, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদির নিবন্ধন করতে পারবেন না। এ জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের তালিকা পাঠানো হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোনো পুরস্কার বা সম্মাননা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। একই সঙ্গে শর্তপূরণ করে ঋণ পরিশোধ করার পর ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপির তালিকা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরবর্তী পাঁচ বছর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!