ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সাফল্য গাঁথা

শুভ দে, মাভাবিপ্রবি 
প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১৬ আগস্ট ২০২১
মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সাফল্য গাঁথা
কয়েকজন বিতর্কপ্রেমী তরূণ ও শিক্ষকের হাত ধরে ২০০৭ সালের ১৯ মে যাত্রা শুরু হয় ক্লাবটির।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বিতর্ক সংগঠন ‘মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি’। ‘চিন্তা ও চেতনার দ্বার উন্মোচিত হোক যুক্তির ছন্দে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কয়েকজন বিতর্কপ্রেমী তরূণ ও শিক্ষকের হাত ধরে ২০০৭ সালের ১৯ মে যাত্রা শুরু হয় ক্লাবটির। এরপর ধাপে ধাপে সফলতার সঙ্গে ১৪ বছর পার করেছে সংগঠনটি। 

কার্যক্রমে সরব:

২০১৫ সালে ‘জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিতর্ক উৎসবে’ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী হয় ‘মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি’। ২০১৬ সালে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি; আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ‘সেমিফাইনালিস্ট’ হয়। এরইমধ্যেই তিনটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। ২০১৭ সালে ‘MBSTUDS IV- The Inception’, ২০১৮ সালে ‘MBSTUDS IV- The recurrence’। এরইমধ্যে আয়োজন করেছে পাঁচটি সফল আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। নতুন বিতার্কিকদের খোঁজে আয়োজিত ‘Freshers Debaters Hunt’ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে ক্লাবটি। 

Advertisement

সম্প্রতি ‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস সোসাইটি টিম হোম ইকোনমিক্স প্রেজেন্টস- ‘ডিবেটারস হান্ট ২০২১’ এ রানারস-আপ হয় তাদের দল- ‘স্বপ্ন চত্বর’। এছাড়াও ‘EBDP Club Novice 2021’ এ দল- ‘হাতির কবর’র সদস্য রুকসানা রুকু অর্জন করে ‘Debaters of the tournament’। এছাড়াও বাকি দুই সদস্য শাকিল ও তামান্না ২য় ও ৩য় সেরা বিতার্কিক হয়। ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর’ প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আরইউএসসি জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসব ২০২১’ এ সেমিফাইনালিস্ট হয় ‘হাতির কবর’। মহামারি এই সময়ে অযথা সময় নষ্ট না করে, দক্ষ বিতার্কিক তৈরির লক্ষে, দেশসেরা বিতার্কিকদের উপস্থিতিতে সংগঠনটি শুরু করেছে, ‘Online debate Workshop-2021’।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে সম্প্রতি ২৯-৩১ জুলাই সংগঠনটি আয়োজন করেছিলো ‘MBSTUDS Fundraiser IV'21’। এই টুর্নামেন্টের অর্থ প্রদান করা হয়েছে ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী ক্যান্সারে আক্রান্ত নাসরিন আক্তার সুইটির চিকিৎসায়।  

ডিবেটিং সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, এই ক্লাব আমাকে বিতর্কের কৌশলগুলো সুন্দরভাবে শিখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে। ক্লাবের প্রত্যেকটি সদস্যকে আমার নিজের পরিবারেরই একটা অংশ বলে মনে হয়। আমাদের সবার প্রিয় মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি আপন গতিতে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাক এ প্রত্যাশায় থাকবে।

ক্লাবের কার্যকরী সদস্য শেখ মহসিন বলেন, ডিবেট বরাবরই আমার কাছে ভালোবাসার জায়গা। এরসঙ্গে স্কুলজীবন থেকেই সম্পৃক্ততা পাকাপোক্ত হলো মাভাবিপ্রবি ডিবেট ক্লাবে এসে। মনে ভয় ছিল হয়তো আপু ভাইয়ারা পাত্তা দিবেন না বা জুনিয়র জন্য অবহেলার চোখে দেখবেন কিন্তু তাদের ব্যবহার, হাতে কলমে শেখানো, বন্ধুত্বসুলভ আচরণ আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছে।

সভাপতি উম্মে হাবিবা হিয়া বলেন, জ্ঞান ও গুণে সমৃদ্ধ একজন শিক্ষার্থীর ভালো বক্তা হওয়াও খুব জরুরি। শিক্ষার্থীর মন ও মনন বিকাশেই কাজ করে যাচ্ছে মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিতেও অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। আশা করি সংগঠনের সদস্যদের হাত ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যশ ও খ্যাতি আরো বিকশিত হবে।

সাধারণ সম্পাদক যারিন তাসনিম ইতু বলেন, বিশ্বাস করি মাভাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তাশক্তির বিকাশে অবদান রাখছে। প্রত্যেকটি সদস্যকে ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়ার পাশাপাশি যোগ্য চিন্তাচেতনার মানুষ হতেও সাহায্য করছে। এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে সফল মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যত গঠনে অবদান রাখবে। 

ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টাদের মধ্যে সিপিএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত ব্যানার্জী বলেন, যুক্তি, তথ্য ও তত্ত্বের সমন্বয়ে সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় নিজের মতামতকে উপস্থাপন করা এবং অন্যের মতামতের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যম হলো বিতর্ক। সর্বোপরি জীবন, সাহিত্য, দর্শন সব ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এক পরিপূর্ণ মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম বিতর্ক চর্চা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!