ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রাবিতে চার দিনে ৩ ছিনতাই, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ৫ জানুয়ারি ২০২২
রাবিতে চার দিনে ৩ ছিনতাই, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি
রাবি প্রক্টরকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধনে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ক্যাম্পাসের ভেতরেই একের পর এক ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গত ৪ দিনেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে এমন ৩টি ঘটনা। এদিকে প্রশাসন অপরাধীদের চিহ্নিত করতে না পারায় ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্যারিস রোডে ভিসির বাসভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বৃষ্টি। তিনি এক বান্ধবীসহ রিকশায় হলে ফিরছিলেন। একটি নীল রঙের বাইকে সাদা রঙের হুডি পরিহিত ২ জন তার হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে জোহা চত্ত্বর হয়ে বেরিয়ে যায়। এঘটনায় ভুক্তভোগী বৃষ্টি আহত হন এবং ব্যাগে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ডকুমেন্টস ও ২৫ হাজার টাকা দামের একটি শাওমি ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

একই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাই চেষ্টা করে স্থানীয় এক যুবক। পরে ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীর চিৎকারে লোকজন এসে ছিনতাইকারীকে আটক করে। আটক হবার পর সেই যুবক স্থানীয় পরিচয় দিয়ে পরে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে ছিনতাইকারী হাত ফসকে পালিয়ে যায়।

Advertisement

এর আগে (৩১ ডিসেম্বর) বছরের শেষদিনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী। এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ছিনতাইয়ের শিকার হোন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মাইশা জান্নাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। বান্ধবীর সঙ্গে হলে ফেরার পথে নীল রঙের একটি বাইকে করে দুজন এসে রিকশা থামান। পরে তার ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোন, আইডি কার্ড, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দ্রুতগতিতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ‘অযোগ্য’ ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধনে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানায় তারা। 

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার পরেও আমরা দেখতে পাই কোন অপরাধী ধরা পড়ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত এই অপরাধগুলো বাড়ছে। অথচ নিরাপত্তার নামে রাতে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকার দরকার কি? এসময় অবিলম্বে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ‘ব্যর্থ প্রক্টর’র পদত্যাগের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

লাগামহীনভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রশাসনের নিরব ভূমিকা ভাবিয়ে তুলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিনের ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোতে আমি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত। দিনে-দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে হলে সর্বপ্রথম প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। এঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সচেতন হতে হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা থাকার পরও ছিনতাই এর কারণ হিসেবে দায়ী করবো প্রশাসনের অপরিকল্পনা ও অনাগ্রহকে। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। 

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. লিয়াকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এসব ঘটনা বন্ধে খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমাদের তরফ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হবে তা আপনাদের প্রেসরিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসকে আরো নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে আমরা মিটিং করেছি। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আমরা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!