রাবি গবেষকের নতুন ধান, প্রতি হেক্টরে ফলন সাড়ে ৬ টন
নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন অধ্যাপক ড. আমিনুল হক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষক। তার এই নতুন জাতের ধানের নাম ‘রা.বি. ধান-০১’। এই ধান উচ্চ ফলনশীল।
শুরুটা যেভাবে:
২০১৪ সালে উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবনে গবেষণা শুরু করেন। ধানের উন্নত সরু-চিকন ও আগাম জাত উদ্ভাবনে ড. আমিনুল ফিলিপাইন থেকে ২০১৪ সালে ১৬০৭, ১৬২১, ১৫৭৮, এনএসআইসি ২২২সহ ধানের ৫৩টি লাইন সংগ্রহ করেন। বিজ্ঞান গবেষণায় রাবির গবেষণা মাঠে পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ করেন।
আরো পড়ুন: সাপ দেখলেই ডাক পড়ে তাসিবের, ভালোবেসে ধরে ফেলেন নিমিষেই
.png)
পরীক্ষামূলক আবাদ:
২০১৪ সালে রোপা আমন মৌসুমে ৪টি স্থানে ও ২০১৫ সালে ৩টি কৃষকের জমিতে ফলন উপযোগিতা যাচাই করা হয়। পরপর দুবছরই দেখা যায় প্রচলিত জাত ব্রি ধান-৩৯ জাতের চেয়ে ফলন ভালো ও চাষাবাদ উপযোগী। পরীক্ষণে পেডিগ্রী-আইআর ৭৮৫৮১-১২-৩-২-২ ও প্যারেন্টেজ নম্বর- আই আর ৭৩০১২-১৩৭-২-২-২ / পিএসবিআরসি-১০ এর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্য দেখতে পান। ধানের নতুন জাত হিসেবে অবমুক্তায়নের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে আবাদের জন্য তা চূড়ান্ত করেন। সরু-চিকন ও আগাম জাতের চাহিদা মেটাতে উদ্ভাবন করেন রা.বি. ধান-০১।
আরো পড়ুন: ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার
তার উদ্ভাবিত রা.বি. ধান-১ এর গুণাগুণ অন্য যেকোন উচ্চ ফলনশীল জাতের তুলনায় উন্নত। উৎপাদন খরচও অপেক্ষাকৃত কম। এই ধানের উৎপাদনকাল সর্বোচ্চ ১৩০ দিন হওয়ায় ধান সংগ্রহের পর আলু, সরিষা, শীতকালীন সবজি ইত্যাদি চাষাবাদ করাও যায়।
রা.বি. ধান-০১ এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ:
এই ধানের পাতা গাঢ় সবুজ। আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য এতে বিদ্যমান। এ জাতটি ইনব্রিড লাইন হওয়ায় কৃষক নিজেই প্রয়োজনীয় বীজ সংরক্ষণ করতে পারে। যা হাইব্রিড লাইনের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এ জাতের গাছের আকার ব্রি ধান-৩৯ এর চেয়ে ৫ সে.মি লম্বা। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা ১১০-১১৫ সে.মি। এ জাতের জীবনকাল ১২৬ থেকে ১৩০দিন। ধানের দানা অনেকটা ব্রি ধান-৩৯ এর মতো, তবে সামান্য লম্বা। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪ গ্রাম। পাকা ধানের রং সোনালী বর্ণের। চালের আকার-আকৃতি একটু লম্বা। ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না। নতুন এই ধানে দেশের উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর তুলনায় হেক্টর প্রতি ফলন দেড় থেকে দুই টন বেশি। প্রতি মন ধানের পাইকারী দর একশ টাকা বেশি, আমিষের পরিমাণ বেশি; সর্বোপরি অ্যামিলেজ (Amylase) এর পরিমাণ কম হওয়ায় রান্নার পর আঠালো ভাবমুক্ত ও ঝরঝরে হয়।
আরো পড়ুন: ৬০ পদকের তেইশই স্বর্ণ, অলিম্পিকে খেলতে চান রাবির রতিশ
রা.বি. ধান-০১ চাষাবাদ পদ্ধতি:
বাংলাদেশে আবাদের জন্য জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের খরিপ বা আমন মৌসুম এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রবি বা বোরো মৌসুম প্রচলিত রয়েছে। উদ্ভাবিত নতুন জাত উভয় মৌসুমে উৎপাদনযোগ্য হলেও খরিপ বা আমন মৌসুম চাষাবাদের জন্য আদর্শ মৌসুম। এ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করতে হবে।
আরো পড়ুন: হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী প্যারিস রোড
বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা গোছা প্রতি ২/৩ টি করে লাইন প্রতি ২০ সেমি ও সারি প্রতি ১৫ সেমি স্পেসিং দিয়ে রোপন করতে হবে। মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ ধান চাষের জন্য উপযুক্ত। সারের মাত্রা উফসী জাতের মতই।
ভাল ফলনের জন্য নিয়মিত আগাছা পরিস্কার, জমিতে রসের অভাব দেখা দেয়া সাপেক্ষে সেচ দিতে হবে। এই ধানে সাধারণত পোকার আক্রমণ দেখা যায় না। তবে যদি পোকার আক্রমণ দেখা দেয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অক্টোবরের ২৫ থেকে নভেম্বর ১০ এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা যাবে। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টর ফলন সাড়ে ছয় টন।