ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঢাবির ‘ডি’ ইউনিটে দ্বিতীয় তাহমিদা: জানালেন চান্স পাওয়ার কৌশল 

শেখ আব্দুর রহিম, বশেমুরবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৬:২২, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ঢাবির ‘ডি’ ইউনিটে দ্বিতীয় তাহমিদা: জানালেন চান্স পাওয়ার কৌশল 
সাইয়েদা তাহমিদা ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ‘ডি’ ইউনিটে দ্বিতীয়।

সম্প্রতি ঢাবির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলো। সাইয়েদা তাহমিদা তিনি সদ্য শেষ হওয়া ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ডি ইউনিটে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আইন বিভাগে অধ্যায়নরত আছেন। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত।  

ঢাবিতে চান্স পাওয়ার স্বপ্নের শুরু কিভাবে? 
-ছোটোবেলা থেকেই বড়দের কাছ থেকে ঢাবির কথা শুনেছি। ক্লাস এইটের জেএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের পর থেকে এই স্বপ্নের প্রশস্ততা আরো বেড়ে যায়। ‘DU or Die’ ছিলো মোটিভেশন। কলেজে ভর্তির পর থেকে নিজেকে যাচায়ের সময় আসে। তখন থেকেই ঢাবিতে চান্স পাওয়ার জন্য পূর্ণ উদ্যমী হই। 

ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার? 
-অবদানের কথা বলতে গেলে পরিবারের কথাটাই আগে বলতে হয়। কারণ পরিবার থেকে সব সুযোগ পেয়েছি। পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। সব সময়ই সাপোর্ট পেয়েছি। তাছাড়া শিক্ষকদের অবদানও কম নয়। আর একজন গাইডলাইন হিসেবে যার অবদান সব থেকে বেশি, সে আমার বড় বোন। এ স্বপ্ন আপুই আমায় দেখিয়েছেন। 

Advertisement

নবম শ্রেণিতে যখন মানবিক বিভাগে পা রাখি, তখন থেকেই তিনি ঢাবিতে চান্স পেতে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। কখনও মোটিভেশন হারিয়ে ফেললে আমাকে আবারও মোটিভেট করেছেন। তবে কারো অবদানই কোনো অংশে কম নয়।

ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পর অনুভূতি ছিলো? 
-অনূভুতি প্রকাশের যথার্থ ভাষা আমার নেই। রেজাল্ট দেখার পর আমি চিৎকার দিয়ে বলেছিলাম, ‘আম্মু আমি ঢাবিকে পেয়েছি’। কথাটি শুনে আম্মু-আব্বু কেঁদেছিলেন। তবে সেটি ছিলো খুশির কান্না।

ঢাবিতে চান্স পেতে কি ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন? 
-গ্রাম থেকে ঢাবিতে চান্স পাওয়াটাই ছিলো বড়সড় চ্যালেঞ্জ। ছোটোবেলা থেকেই আমরা শহুরে শিক্ষার্থীদের মতো শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ পাই না। অন্যদিকে করোনার জন্য আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়া, ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও দীর্ঘসূত্রীতা, বার বার পরীক্ষার তারিখ চেঞ্জ হওয়া, সব কিছুই কেমন যেন অনিশ্চিত ছিলো। মানসিকভাবে এগুলো ছিলো অনেক বড় একটা চাপ। এসব কিছুর জন্য বারবার হতাশায় ডুবে যেতাম। এই অবস্থায় অনেক সময়ই পাড় হয়েছে। কিন্তু হাল ছেড়ে দেইনি। প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনার সঙ্গে লেগে থাকাটা অনেক টাফ ছিলো। আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে দোয়া করেছি, যেন আমার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারি। আল্লাহ আমাকে নিরাশ করেননি।

শিক্ষার্থীদের উপদেশ?
-গ্রামের শিক্ষার্থীদের শহরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টিকে থাকা অনেক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের। কিন্তু মানুষের অসাধ্য বলে কিছু নেই। এজন্য প্রয়োজন ভালো গাইডলাইন আর নিজের চেষ্টা। কারণ ধৈর্য+পরিশ্রম+ ভাগ্য= সোনার হরিণ। এটাকে মেনে চললেই সফলতা আসতে বাধ্য। ‘Failure is the pillar of success’ এই প্রবাদ এর দিন শেষ। এখন ‘Smart work is the pillar of success’ এর দিন। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে তবে সেটা স্মার্টলি। গ্রামে যাদের সুযোগ বা সামর্থ্য নেই ঢাকায় বা যে কোনও শহরের কোচিং করার। তাদের বলবো অনলাইনে এখন কম টাকায় ভাল সার্ভিস পাওয়া যায়, তারা যেন যেকোন কোচিং বা ব্যাচের সাথে নিজেদের যুক্ত করে। 

জীবনের লক্ষ্য? 
-জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে এখন সঠিক উত্তর দিতে পারবো  না। কারণ এখন মূল লক্ষ্য ডিপার্টমেন্টে ভালো করা। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা ঢাকায় এসে কোচিং করতে পারছে না তাদের জন্য নাম মাত্র টাকায় অনলাইনে ব্যাচ করে পড়ানোর কাজ করছি। আর পড়াশোনা শেষ করে কি হব সেটা এখন বলতে পারছি না তখন মনের ইচ্ছা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা  ঠিক করে দিবে কোন পেশায় যাব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!