ব্যতিক্রমী এই দোকানের উদ্যোক্তা নাঈম আশরাফ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।
বুকলেন্ডু নামে ফেসবুকে একটি পেইজ আছে আশরাফের। এই পেইজ (https://www.facebook.com/Booklendu-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%81-104163388825476/) থেকে যেকোনো বই কমদামে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। এসব বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেয়া হবে কোনো বিতরণ ফি ছাড়াই। কেউ চাইলে কিস্তিতেও পরিশোধ করতে পারেন টাকা।
.png)
বুকলেন্ডু ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের 'অল্প সময়ের জন্য অল্প দামে বই' সেবা পৌঁছে দিতে চান উদ্যোক্তা। তাদের এই দোকানে বই ছাড়াও খাতা, নোটবুক, কলম, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে তারা। কোনো কিছু কেনার পর সেটির দাম পরিশোধ করতে হয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে। এই দোকানে যেকোনো দু'টি পণ্য কিনলে তার সাথে একটি চকলেট উপহার পায় ক্রেতারা।
বুকলেন্ডুর উদ্যোক্তা নাঈম আশরাফ বলেন, এমন একটি আইডিয়া নিয়ে আমি কাজ করতে চাচ্ছিলাম যেটা একটু ভিন্নরকম এবং ইন্টারেস্টিং হবে। সেটি নিয়েই আমি এগোতে থাকি। এক পর্যায়ে এই আইডিয়াটা আসলো যে আমি এমন একটি দোকান দিতে পারি যেটি দোকানদার ছাড়া চলবে, ক্রয়-বিক্রয় হবে। আমার মনে হয়েছে আমি যদি একটা জায়গায় আমার পণ্য রাখি এবং একইসাথে সেই পণ্যের দাম পরিশোধের কিছু উপায়ও দিয়ে রাখি তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটিকে এনজয় করবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সততা চর্চা করারও একটি সুযোগ পাবে যেহেতু এখানে কোনো দোকানদার থাকবে না। সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে পণ্যের দাম দিবে শিক্ষার্থীরা। আমার দোকানে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করেছি।
নাঈমের দোকানটিতে যেমনি বই কেনাও যেমন যায় তেমনি চাইলে কয়েক সপ্তাহের জন্য বই ভাড়াও নেওয়া যায়। যেকোন জনপ্রিয় বই ৭ দিনের জন্য- বিক্রয়মূল্যের ১০% দামে, ১৪ দিনের জন্য - বিক্রয়মূল্যের ২০% দামে ও ২১ দিনের জন্য - বিক্রয়মূল্যের ৩০% দামে নিয়ে যেতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা নাঈম আশরাফ বলেন, যেহেতু আমি একাই এই দোকানের দেখভাল করি এবং আমার কোনো সেলসম্যান (বিক্রয়কর্মী) নেই ফলে কম দামে পণ্য দিলেও আমার কোনো ঘাটতি থাকে না বরং লাভ থাকে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার এই সততার দোকানটি আরো বড় করতে চান তিনি। তিনি বলেন, বিক্রি হয়েছে খুবই কম তবে আমি ক্রেতাদের সাড়া পেয়েছি অনেক বেশি। তারা দোকানে আসছে পণ্য দেখছে, নাড়াচাড়া করছে। তারা হয়তো পণ্য নিচ্ছে না তবে সেগুলো দেখছে, আমি যখন আরো বিভিন্নরকম পণ্য দোকানে সাজাবো তখন হয়তো তারা তাদের পছন্দের পণ্য নিবে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করলে এই দোকান আরো চলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নাঈম আরো বলেন, আমি এই বই সরবরাহ ও এই দোকানের উদ্যোগ প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় করি। কারণ এই জায়গাটার সাথে আমি পরিচিত। আমি মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। এখানে চুরি হওয়ার কোনো ভয় নেই। যারাই কিছু কিনছেন তারাই টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন।
এদিকে এই দোকানকে নিজেদের সততার পরীক্ষা দেয়ার জায়গা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, এই দোকান থেকে পণ্য কেনার মাধ্যমে আমরা নিজেদের সততার পরীক্ষা দিতে পারি৷ কোনো দোকানদার এতে নেই তাই সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা পাওনা পরিশোধ করা শিখবে৷ আইডিয়াটা আসলেই সুন্দর।