ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

নিয়ন্ত্রণহীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর: ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৩৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
নিয়ন্ত্রণহীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর: ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
গোপনীয় শাখায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না থাকলেও অনায়াসে সেখানে ঢুকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে কাগজপত্র উত্তোলন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মের চর্চা না থাকায় ছোটখাটো কাজের জন্য দিনের পর দিন কর্মকর্তাদের টেবিলে ঘুরতে হয়  তাদের। গোপনীয় শাখায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না থাকলেও অনায়াসে সেখানে ঢুকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেকসময় কর্মকর্তারাই শিক্ষার্থীদের সেখানে যেতে বলেন। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র তোলার জন্য আবেদনের ১৫ দিন পর তা পাওয়ার কথা। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে আবেদন করলে সাত দিনে পাওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবেদনের পর নির্ধারিত সময় পার হলেও পাওয়া যায় না কাঙ্খিত কাগজপত্র। এ ছাড়া আবেদনপত্র জমা দিয়ে গেলে অনেকসময় তা হারিয়ে ফেলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিয়মমাফিক করা আবেদনের কাজ করা হয় ধীরগতিতে। ফলে বাধ্য হয়ে গোপনীয় শাখায় ঢুকে হাতে হাতে কাজ করাতে হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়া অনেকসময় সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারাই শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে কাজ করাতে। এদিকে কাজ করতে গেলে কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন বলেন, নিয়মমাফিক আবেদন করে কাজ হয়না তাই বাধ্য হয়ে হাতে হাতে কাজ করাতে হয়। আবার এভাবে কাজ করাতে গেলে কর্মকর্তারা আমাদের সাথে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করে।

Advertisement

বাংলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাস্টার্সের ট্রান্সক্রিপ্ট ও নম্বরপত্র উত্তোলনের জন্য খুলনা থেকে ক্যাম্পাসে এসে নিয়মমাফিক ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে আবেদন করি। পরে দুই দিন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে ঘোরাঘুরি করে কাগজপত্র না পেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়ে চলে আসি। কয়েক দিন পর কাউন্টারে ট্রান্সক্রিপ্ট পেলেও নম্বরপত্র পাইনি। 

পরে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের বললে তারা বলেন, আবেদনপত্র হারিয়ে গেছে, আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে। নতুন করে আবেদন আবার আবেদনের এক মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি।

লোক প্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পাঁচ মাস আগে কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিছুদিন আগে তিনটি কাগজপত্র পেয়েছি; কিন্তু এখনো ট্রান্সক্রিপ্ট ও নম্বরপত্র পাইনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, পিয়ন ও কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়ে অনেকে পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়ে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নেই। এ ছাড়াও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে পদোন্নতি পেলেও অনেকে সংশ্লিষ্ট কাজ করতে পারে না। তবে লোকবল সঙ্কট থাকলেও সুষ্ঠু নিয়মের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই নিরসন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ লাভলু বলেন, নিয়মের কথা বললেও শিক্ষার্থীরা তার তোয়াক্কা করে না। এ ছাড়া লোকবল ও পর্যাপ্ত জায়গার সঙ্কটের কারণে আমরা সেবা দিতে পারছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!