শীতের আগমণের সাথে সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেছে শীতের পিঠার অস্থায়ী দোকান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, রেলস্টেশন, শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে অস্থায়ী এসব দোকানে বিকেল হলেই দেখা যায় মাটির চুলোয় পিঠা তৈরির দৃশ্য। এসব দোকানগুলোতে বিকেল থেকেই শুরু হয় পিঠাপ্রেমীদের আনাগোনা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। পিঠা খেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের আশেপাশের স্থানীয়রা ভিড় করেন এসব ছোট দোকানগুলোতে। এছাড়া ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও এসব পিঠার স্বাদ নিতে ভুল করেন না।
দোকানগুলোতে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ডিম চিতই, মাংসের পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, তেলের পিঠা, জামাই পিঠা, সঙ্গে বেশ কয়েক ধরনের মজাদার ঝালের পিঠা পাওয়া যায়।
.png)
জিরো পয়েন্টের পিঠা বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, করোনার কারণে অনেক দিন বাসায় বসেছিলাম। কোনো আয় না থাকায় চারদিকে দেনা। এখন পিঠা বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সব কিছুর দাম যেরকম চড়া তাতে পিঠা বিক্রি করেও খুব একটা লাভ হয় না।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রুমি আহমেদ বলেন, হেমন্তের শেষে শীতের জানানটা দিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি হিম বাতাস আর শহীদ মিনার চত্বরে বসা ভাসমান বাহারি পিঠার দোকানই যথেষ্ট। স্থায়ী কোনো টিএসসি না থাকায়, বিকেলের পর থেকে শহীদ মিনারেই জমে উঠতো আমাদের আড্ডা। গিটার, বাঁশি, হারমোনিকা, আর হাতের তুড়িতেই বন্ধুদের কন্ঠে গান, মেতে উঠে নানা গল্পে, নানা কথায়।
পিঠা খেতে আসা পিন্টু দাস বলেন, শীতের এই সময়টা ক্যাম্পাসে অন্যরকম একটা আমেজ দেখা যায়। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট এবং শহীদ মিনারে ছোট পিঠার দোকানগুলোর চারপাশে ভিড় করে পিঠা খাওয়ার দৃশ্য অসাধারণ।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা ইবনাতের কন্ঠে ভিন্ন সুর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েই থাকেন পরিবারের সঙ্গে। বললেন, ক্যাম্পাসের শীতটাও প্রতিবার নতুনত্বের আলোড়ন জোগায়। ১ নং গেইটের রাস্তায় শীতের কাপড় জড়িয়ে হাটা, মউর দোয়ানের একস্ট্রা কনডেন্সড মিল্কের মিষ্টি চা, গরম আলুর চপ, স্টেশন থেকে আরো হাঁটি কিছুদূর, লেবু-রঙ চা’র জন্য আর আইটি ক্যান্টিনের সুগন্ধি এলাচ চা, ফরেস্ট্রির কুয়াশা, কারো ঠান্ডা-বরফ হাত প্রিয় তার নিজের হাতে নিয়ে রাখে। কারণ ভালোবাসায় অনেক উষ্মতা। প্রিয় ও প্রেয়সীর মিলিয়ে কেনা একই রঙের শাল, কখনো রাস্তায় কোনো গেরুয়া রঙের শাল গায়ে হিমুবেশীর আবির্ভাব! কেউবা আরাম করে ধোঁয়া উড়ায়। কুয়াশা আর ধোঁয়া মিলে মিশে যায়। ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে আমাদের এই ক্যাম্পাসে। সব মিলিয়ে অন্যরকম শীতের ক্যাম্পাস।